বাংলা৭১নিউজ,ঢাকা: সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএসএফ’র মহাপরিচালক রজনীকান্ত মিশ্রা। তবে তিনি এটাকে হত্যাকাণ্ড না বলে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সীমান্তে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু’ ঘটার কারণ খুঁজে বের করার অনুরোধ জানান।
আজ শনিবার রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
গত ১২ জুন থেকে পিলখানায় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪৮তম সীমান্ত সম্মলেন শুরু হয়। ১৫ জুন পর্যন্ত চলা সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। আর বিএসএফ মহাপরিচালক রজনীকান্ত মিশ্রার নেতৃত্বে অংশ নেয় ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
তিনি বলেন, এগুলো হত্যাকাণ্ড না, অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর যৌথ টহলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি। অপরদিকে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।
বিএসএফ ডিজি বলেন, সীমান্তে নিহতের ঘটনা কখনওই হত্যাকাণ্ড নয়, এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। আমরা সবসময়ই জীবনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি, এ জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর পরেও মাঝে-মধ্যে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়, যা খুবই সামান্য থেকে সামান্যতম।
এর মধ্যেও যে কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, সেসব বিষয়ে স্থানীয় থানায় মামলা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। সীমান্তের যেসব এলাকায় গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালান হয়ে থাকে সেসব স্থানে সমন্বিত যৌথ টহল পরিচালনাসহ যৌথ কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাণহানির ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছি।
রজনীকান্ত সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত বছর ভারতীয় ভূমিতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন বাংলাদেশি, ছয়জন ভারতীয়। একজন জওয়ান মারা গেছেন, ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এ বছরও তিনজন নিহত হয়েছেন। তারা প্রতিটি ঘটনায় নিয়মমাফিক থানায় মামলা করেছেন এবং তদন্ত করেছেন। ভারতীয় ভূমিতে দুর্বৃত্তদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করেছেন। তারা বিজিবি ও বিএসএফকে সীমান্তের যেসব জায়গা দুর্বল সেসব জায়গা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
ভারতীয় সীমান্ত হয়েও বাংলদেশে ইয়াবা প্রবেশ করছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ ডিজি বলেন, ইয়াবার যোগানদাতা তৃতীয় কোনো দেশ। ইয়াবাসহ যেকোনো মাদক পাচারের বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর।
এ সময় বিজিবির ডিজি সাফিনুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার (সিবিএমপি) ওপর গুরুত্বারোপ করে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে উভয়পক্ষই সিবিএমপি বাস্তবায়নে সম্মতি প্রকাশ করেছে। এ অনুযায়ী অসতর্কতাবশত সীমান্ত অতিক্রমকারী সাধারণ নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে দ্রুত সোপর্দ করতে দু’পক্ষ সম্মত হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সীমান্তে নিহতের ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছি। এ ছাড়া সম্মেলনে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ভারত থেকে বাংলদেশে চলাচল প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখাসহ পরস্পরিক সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সীমান্তে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক দ্রব্য, স্বর্ণ ও জাল মুদ্রা পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আওতায় চোরাচালান দ্রব্যসহ আটক ব্যক্তির বিষয়ে তাৎক্ষনিক তথ্য এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এম ইউ