ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানক্ষেতে মিলল শিশুর মরদেহ, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে নিজের সাত বছর বয়সী শিশুসন্তান ইউসুফকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মা রিনি বেগমের বিরুদ্ধে। নিখোঁজের তিন দিন পর বগুড়ার সোনাতলার বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ ঘটনায় শিশুটির মা রিনি বেগম আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ইউসুফ বড় বালুয়া এলাকার বাসের হেলপার উজ্জ্বল হোসেনের সঙ্গে বসবাস করত। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইউসুফ উজ্জ্বল হোসেনের নিজের সন্তান নয়। রিনি বেগম শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে পরে উজ্জ্বল হোসেনকে বিয়ে করেন।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুটির দুই পা চেপে ধরে রেখেছিলেন তার মা। পরে শিশুটির নিথর দেহ ধানক্ষেতে ফেলে যাওয়া হয় বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, কীভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্পর্কে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিনি বেগমের প্রথম বিয়ে হয়েছিল বগুড়া শহরের অদূরে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার টেকেনি। পরে শিশু ইউসুফকে নিয়ে তিনি সোনাতলার বড় বালুয়া এলাকায় উজ্জ্বল হোসেনকে বিয়ে করে তার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। উজ্জ্বল পেশায় বাসের হেলপার। পরবর্তী সময়ে রিনি বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ছিল বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

এর আগে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউসুফ নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন তাদের বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি এসেছিলেন। ওই দিন থেকেই শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা। নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ।

বালুয়াহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছেও পরিচিত ছিল ইউসুফ। স্থানীয় দোকানিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে বাজারের বিভিন্ন দোকানে পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দিয়ে সহযোগিতা করত। বিনিময়ে দোকানিরা তাকে পাঁচ থেকে দশ টাকা করে দিতেন।

ছোট্ট শিশুটির এমন করুণ মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হওয়ার কথা তার পরিবার। অথচ ইউসুফের মৃত্যুর ঘটনায় তার মায়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির মৃত্যু ঘিরে উঠে আসা তথ্যগুলো যেমন মর্মান্তিক, তেমনি এ ঘটনায় অপরাধের প্রকৃত কারণ, সম্ভাব্য সহযোগী এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্ঘাটন করাও জরুরি।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। শিশুটির মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় তার মা রিনি বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কীভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ধানক্ষেতে মিলল শিশুর মরদেহ, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় ১১:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে নিজের সাত বছর বয়সী শিশুসন্তান ইউসুফকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মা রিনি বেগমের বিরুদ্ধে। নিখোঁজের তিন দিন পর বগুড়ার সোনাতলার বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ ঘটনায় শিশুটির মা রিনি বেগম আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ইউসুফ বড় বালুয়া এলাকার বাসের হেলপার উজ্জ্বল হোসেনের সঙ্গে বসবাস করত। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইউসুফ উজ্জ্বল হোসেনের নিজের সন্তান নয়। রিনি বেগম শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে পরে উজ্জ্বল হোসেনকে বিয়ে করেন।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুটির দুই পা চেপে ধরে রেখেছিলেন তার মা। পরে শিশুটির নিথর দেহ ধানক্ষেতে ফেলে যাওয়া হয় বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, কীভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্পর্কে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিনি বেগমের প্রথম বিয়ে হয়েছিল বগুড়া শহরের অদূরে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার টেকেনি। পরে শিশু ইউসুফকে নিয়ে তিনি সোনাতলার বড় বালুয়া এলাকায় উজ্জ্বল হোসেনকে বিয়ে করে তার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। উজ্জ্বল পেশায় বাসের হেলপার। পরবর্তী সময়ে রিনি বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ছিল বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

এর আগে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউসুফ নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন তাদের বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি এসেছিলেন। ওই দিন থেকেই শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা। নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ।

বালুয়াহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছেও পরিচিত ছিল ইউসুফ। স্থানীয় দোকানিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে বাজারের বিভিন্ন দোকানে পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দিয়ে সহযোগিতা করত। বিনিময়ে দোকানিরা তাকে পাঁচ থেকে দশ টাকা করে দিতেন।

ছোট্ট শিশুটির এমন করুণ মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হওয়ার কথা তার পরিবার। অথচ ইউসুফের মৃত্যুর ঘটনায় তার মায়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির মৃত্যু ঘিরে উঠে আসা তথ্যগুলো যেমন মর্মান্তিক, তেমনি এ ঘটনায় অপরাধের প্রকৃত কারণ, সম্ভাব্য সহযোগী এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্ঘাটন করাও জরুরি।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। শিশুটির মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় তার মা রিনি বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কীভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস