ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাফল্য ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতিতে কমিউনিটি ব্যাংক Logo এক দশক অপেক্ষার পর ‘জিটিএ ৬’-এর লঞ্চ ট্রেলার প্রকাশ Logo ইউক্রেনে ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প Logo সৌদিতে হামলার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, এশিয়ান কাপ কি পিছিয়ে যাবে Logo এআইয়ের ঝুঁকি সামলানোর তাগিদ আইএমএফের Logo জন্মদিনে যেভাবে বোকা বনে গেলেন হাসান মাহমুদ Logo বিচারক আরিফুলকে বরখাস্তের কারণ জানাল আইন মন্ত্রণালয় Logo অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা: আইএমএফের কাছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাইছে বাংলাদেশ Logo গুলশানে ‘পেয়ারি তেহারি’ রেস্টুরেন্টকে এক লাখ টাকা জরিমানা Logo মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও থামেনি গুলি, যুবককে হত্যার পর ৮–১০ মিনিট ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়

সরকার সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে : নৌপরিবহনমন্ত্রী

সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর ভারত ও মিয়ানমার তাদের সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ শুরু করলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। তবে বর্তমান সরকার সমুদ্রের অফশোর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর ভারত ও মিয়ানমার তাদের অফশোর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন শুরু করেছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বর্তমান সরকার অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। সমুদ্রের বিশাল সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সমুদ্রের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গিয়ে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করা যাবে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পদ আহরণ করতে হবে। তা না হলে একপর্যায়ে এসব সম্পদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ জলরাশি। যেসব দেশ এ জলরাশিকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছে, তাদের জন্য তা সম্পদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশও সমুদ্র, নদী ও জলসম্পদে সমৃদ্ধ। কিন্তু এসব সম্পদের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।’

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ এবং প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত রয়েছে।

এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতিতে এর বড় অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।’

বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা নিয়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলছে। ২০৩০ সালে এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরকেও আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

জ্বালানি রূপান্তর প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ন্যায্যতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে, তবে তা রাতারাতি সম্ভব নয়।’

 

Tag :

সাফল্য ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতিতে কমিউনিটি ব্যাংক

সরকার সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে : নৌপরিবহনমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:১৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর ভারত ও মিয়ানমার তাদের সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ শুরু করলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। তবে বর্তমান সরকার সমুদ্রের অফশোর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর ভারত ও মিয়ানমার তাদের অফশোর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন শুরু করেছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বর্তমান সরকার অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। সমুদ্রের বিশাল সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সমুদ্রের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গিয়ে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করা যাবে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পদ আহরণ করতে হবে। তা না হলে একপর্যায়ে এসব সম্পদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ জলরাশি। যেসব দেশ এ জলরাশিকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছে, তাদের জন্য তা সম্পদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশও সমুদ্র, নদী ও জলসম্পদে সমৃদ্ধ। কিন্তু এসব সম্পদের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।’

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ এবং প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত রয়েছে।

এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতিতে এর বড় অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।’

বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা নিয়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলছে। ২০৩০ সালে এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরকেও আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

জ্বালানি রূপান্তর প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ন্যায্যতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে, তবে তা রাতারাতি সম্ভব নয়।’