মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম সঞ্চয়পত্র। হাতে কিছু সঞ্চিত অর্থ থাকলেই অনেকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্র কেনেন।
শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা সংসারের জরুরি প্রয়োজনে অর্থের দরকার হলে অনেকের শেষ ভরসাও এই সঞ্চয়পত্র।
তবে পরিকল্পনা ছাড়া বিনিয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়া তো যায়ই না, বরং লোকসানের আশঙ্কাও থাকে। সঞ্চয়পত্র কেনার আগে মেয়াদ, অর্থের প্রয়োজন এবং মুনাফার নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানা জরুরি। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব ভুল বেশি হয়—
জরুরি টাকা আটকে ফেলা
আপৎকালীন তহবিল কিংবা চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে লাগতে পারে এমন অর্থ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়।
সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য অর্থ আটকে থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভাঙালে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়া যায় না। তাই কয়েক মাসের মধ্যে টাকার প্রয়োজন হতে পারে এমন অর্থ দিয়ে সঞ্চয়পত্র না কেনাই ভালো।
বিনিয়োগের স্তর না বোঝা
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর মুনাফার হার নির্ভর করে।
সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ধাপে ধাপে কমে যায়। তাই বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম ও সীমা না বুঝে এক নামে সঞ্চয়পত্র কেনা ঠিক নয়। পরিবারের সদস্যদের নামে বৈধভাবে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে সেটিও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কার নামে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, অর্থের মালিকানা এবং করসংক্রান্ত বিষয়গুলো আগে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
আয়কর সংক্রান্ত ভুল
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়।
কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও আয়করসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ঠিকভাবে না দিলে মুনাফার ওপর বেশি হারে কর কাটার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগে নিজের করসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন।
ভুল স্কিম বেছে নেওয়া
আপনার কখন মুনাফার অর্থ প্রয়োজন, সেটি না ভেবেই সঞ্চয়পত্র কেনা আরেকটি বড় ভুল। বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে মুনাফা পাওয়ার ধরন ও সময় আলাদা। যেমন পরিবার সঞ্চয়পত্রে মাসিক ভিত্তিতে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার কিছু সঞ্চয়পত্রে তিন মাস অন্তর মুনাফা পাওয়া যায়। তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগে ঠিক করতে হবে- মাসে, তিন মাস অন্তর নাকি মেয়াদ শেষে মুনাফা প্রয়োজন। নিজের আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে স্কিম নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সব সঞ্চয় এক জায়গায় বিনিয়োগ
ভবিষ্যতের সব সঞ্চয় এক খাতে, যেমন শুধু সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখা’ নীতি অনুসরণ করা ভালো। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ ভাগ করা উচিত। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য অর্থ সহজে উত্তোলনযোগ্য জায়গায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করা হলে আর্থিক চাপ কমে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















