ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় নাবিকদের মানসিক চাপ ও নানান সমস্যার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই রদবদলের মাঝেও ওয়াশিংটন হুমকি দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু না হলে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ বজায় রাখা হবে, যদিও হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মার্কিন দাবি অস্বীকার করে ইরান জলপথটি নিজেদের দখলে এবং সম্পূর্ণ বন্ধ বলে দাবি করেছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে থাকা তাদের সম্পত্তি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৪০ দিনের বেশি সমুদ্রে থাকায় পানিদূষণ, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান জানান, দীর্ঘ ২০০ দিন বন্দরে না ভিড়ে সমুদ্রে থাকায় যুদ্ধজাহাজটির সক্ষমতা ও প্রস্তুতি কমে গেছে, যার দরুন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে জর্জ ওয়াশিংটনকে আনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন, পর্যায়ক্রমে রণতরি বদলে দিয়ে হলেও ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে। একই দিনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। গত ১৭ জুনের ৬০ দিন মেয়াদি সমঝোতা চুক্তিটির মেয়াদ রোববার (১৬ আগস্ট) শেষ হতে চললেও নতুন কোনো আলোচনার ইঙ্গিত নেই, যা দুই দেশের সংঘাতকে আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১৩০-১৪০টি জাহাজ চলাচলের বিশ্বখ্যাত এই জলপথ দিয়ে মঙ্গলবার মাত্র আটটি এবং গত ১০ দিনে গড়ে ১২টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা উভয় দেশের নিয়ন্ত্রণের দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাধার মুখে পড়েছে। মার্কিন অবরোধে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে ইরান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও হরমুজ প্রণালিকে দর-কষাকষির মূল হাতিয়ার বানিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় ০৯:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় নাবিকদের মানসিক চাপ ও নানান সমস্যার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই রদবদলের মাঝেও ওয়াশিংটন হুমকি দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু না হলে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ বজায় রাখা হবে, যদিও হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মার্কিন দাবি অস্বীকার করে ইরান জলপথটি নিজেদের দখলে এবং সম্পূর্ণ বন্ধ বলে দাবি করেছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে থাকা তাদের সম্পত্তি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৪০ দিনের বেশি সমুদ্রে থাকায় পানিদূষণ, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান জানান, দীর্ঘ ২০০ দিন বন্দরে না ভিড়ে সমুদ্রে থাকায় যুদ্ধজাহাজটির সক্ষমতা ও প্রস্তুতি কমে গেছে, যার দরুন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে জর্জ ওয়াশিংটনকে আনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন, পর্যায়ক্রমে রণতরি বদলে দিয়ে হলেও ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে। একই দিনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। গত ১৭ জুনের ৬০ দিন মেয়াদি সমঝোতা চুক্তিটির মেয়াদ রোববার (১৬ আগস্ট) শেষ হতে চললেও নতুন কোনো আলোচনার ইঙ্গিত নেই, যা দুই দেশের সংঘাতকে আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১৩০-১৪০টি জাহাজ চলাচলের বিশ্বখ্যাত এই জলপথ দিয়ে মঙ্গলবার মাত্র আটটি এবং গত ১০ দিনে গড়ে ১২টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা উভয় দেশের নিয়ন্ত্রণের দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাধার মুখে পড়েছে। মার্কিন অবরোধে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে ইরান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও হরমুজ প্রণালিকে দর-কষাকষির মূল হাতিয়ার বানিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/জেএস