ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন ‘অস্ত্রের মজুত’ নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসকারীদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত ষষ্ঠ মাসে গড়ালেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগারে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুত নেই—বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসা এমন প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পেন্টাগন ও প্রশাসনের গোপন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রদ্রোহী এই তথ্য ফাঁসকারীদের ধরে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্রের মজুত রয়েছে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের কোনো অভাব নেই। উপরন্তু, চাহিদা অনুযায়ী বিশাল পরিমাণের নতুন অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুত তা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে মার্কিন অস্ত্রাগারে নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট এবং এ নিয়ে ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে বাগবিতণ্ডার যে দাবি করা হয়েছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। গণমাধ্যমের এই ধরনের প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া ও রাষ্ট্রদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কর্মদক্ষতায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভান্ডার খালি হয়ে আসছে—এমন খবর প্রকাশের পর পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে-রেজা দাবি করেন, তাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র যেকোনো হুমকির উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি লেখেন, প্রতিদিনই শত্রুপক্ষের শক্তি কমে আসার লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে আমাদের সশস্ত্রবাহিনী দেশের প্রতিরক্ষাশিল্পের সহায়তায় যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। যারা আমদানিকৃত সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও শক্তিমত্তা কেনার চেষ্টা করছে, তারা শিগগিরই বুঝতে পারবে যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের দেশীয় প্রযুক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী ও শ্রেষ্ঠ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলায় বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ব্যয় হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিবিসি-র মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ গোপন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বেশির ভাগই ব্যবহার হয়ে গেছে। অপরদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করেন ট্রাম্প। যদিও বিবিসি এই প্রতিবেদনের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। বর্তমানে পেন্টাগনে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের ওপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করেছেন হেগসেথ।

জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মার্কিন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে করা একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জুলাই মাসের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র ৭৫৯ থেকে ৮২৭টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট ছিল, যা যুদ্ধ শুরুর আগের ২,৩৩০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। সিএসআইএস-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও সাবেক মেরিন কোর কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উচ্চ-উচ্চতার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘থাড’-এর প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ইরানের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাতের কারণেও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর থেকে কিয়েভকে প্রচুর পরিমাণে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে ওয়াশিংটন। তবে মজুত কমে আসায় পেন্টাগন এখন তাদের প্যাট্রিয়ট সরবরাহ সীমিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনের অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি মেনে নেওয়া একটি ‘বড় পদক্ষেপ’ হবে, তবে এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও সরবরাহের প্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সামরিক ভান্ডার দ্রুত পূরণ করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিএসআইএস-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পূর্বের অবস্থায় (প্রায় ৩,০০০টি) ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে, যা ২০৩১ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত গড়াতে পারে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্র উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে। একই সঙ্গে গত ১৪ জুন সিবিএস-এর এক অনুষ্ঠানে সামরিক ঘাটতির বিষয়টিকে ‘বানানো গল্প’ বলে অভিহিত করেন হেগসেথ। তবে এর পরপরই তিনি সেনাদের বেতন প্রদান ও দ্রুত অস্ত্রাগার পুনঃপূরণের জন্য মার্কিন সিনেটের কাছে ৮,৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি তহবিল বরাদ্দের আবেদন জানান।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

মার্কিন ‘অস্ত্রের মজুত’ নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসকারীদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপডেট সময় ১২:১৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত ষষ্ঠ মাসে গড়ালেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগারে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুত নেই—বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসা এমন প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পেন্টাগন ও প্রশাসনের গোপন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রদ্রোহী এই তথ্য ফাঁসকারীদের ধরে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্রের মজুত রয়েছে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের কোনো অভাব নেই। উপরন্তু, চাহিদা অনুযায়ী বিশাল পরিমাণের নতুন অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুত তা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে মার্কিন অস্ত্রাগারে নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট এবং এ নিয়ে ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে বাগবিতণ্ডার যে দাবি করা হয়েছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। গণমাধ্যমের এই ধরনের প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া ও রাষ্ট্রদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কর্মদক্ষতায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভান্ডার খালি হয়ে আসছে—এমন খবর প্রকাশের পর পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে-রেজা দাবি করেন, তাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র যেকোনো হুমকির উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি লেখেন, প্রতিদিনই শত্রুপক্ষের শক্তি কমে আসার লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে আমাদের সশস্ত্রবাহিনী দেশের প্রতিরক্ষাশিল্পের সহায়তায় যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। যারা আমদানিকৃত সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও শক্তিমত্তা কেনার চেষ্টা করছে, তারা শিগগিরই বুঝতে পারবে যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের দেশীয় প্রযুক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী ও শ্রেষ্ঠ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলায় বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ব্যয় হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিবিসি-র মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ গোপন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বেশির ভাগই ব্যবহার হয়ে গেছে। অপরদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করেন ট্রাম্প। যদিও বিবিসি এই প্রতিবেদনের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। বর্তমানে পেন্টাগনে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের ওপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করেছেন হেগসেথ।

জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মার্কিন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে করা একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জুলাই মাসের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র ৭৫৯ থেকে ৮২৭টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট ছিল, যা যুদ্ধ শুরুর আগের ২,৩৩০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। সিএসআইএস-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও সাবেক মেরিন কোর কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উচ্চ-উচ্চতার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘থাড’-এর প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ইরানের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাতের কারণেও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর থেকে কিয়েভকে প্রচুর পরিমাণে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে ওয়াশিংটন। তবে মজুত কমে আসায় পেন্টাগন এখন তাদের প্যাট্রিয়ট সরবরাহ সীমিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনের অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি মেনে নেওয়া একটি ‘বড় পদক্ষেপ’ হবে, তবে এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও সরবরাহের প্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সামরিক ভান্ডার দ্রুত পূরণ করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিএসআইএস-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পূর্বের অবস্থায় (প্রায় ৩,০০০টি) ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে, যা ২০৩১ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত গড়াতে পারে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্র উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে। একই সঙ্গে গত ১৪ জুন সিবিএস-এর এক অনুষ্ঠানে সামরিক ঘাটতির বিষয়টিকে ‘বানানো গল্প’ বলে অভিহিত করেন হেগসেথ। তবে এর পরপরই তিনি সেনাদের বেতন প্রদান ও দ্রুত অস্ত্রাগার পুনঃপূরণের জন্য মার্কিন সিনেটের কাছে ৮,৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি তহবিল বরাদ্দের আবেদন জানান।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/জেএস