ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ হাজার মুক্তার পোশাকে নতুন করে ঐশ্বরিয়ার প্রেমে ফ্যাশন বিশ্ব

কান চলচ্চিত্র উৎসব আর ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম যেন একে অপরের পরিপূরক। বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় নিজের অনন্য উপস্থিতি দিয়ে ফ্যাশনপ্রেমীদের মুগ্ধ করে আসছেন তিনি।

২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নীল ঝলমলে মারমেড গাউন থেকে শুরু করে নাটকীয় সাদা ট্যাক্সিডো লুক-প্রতিটি উপস্থিতিই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউস টনি ওয়ার্ড কতুর যে অদেখা লুক প্রকাশ করেছে, সেটিই এখন ফ্যাশন জগতের নতুন আলোচনার বিষয়।

প্রথম দেখাতেই মনে হবে যেন কোনো রূপকথার রাজকন্যা সমুদ্রের ফেনা মেখে দাঁড়িয়ে আছেন। আইভরি-সাদা রঙের স্ট্র্যাপলেস গাউনটি ছিল একই সঙ্গে রাজকীয়, আধুনিক এবং শিল্পসম্মত। পোশাকটির পুরো বডিসজুড়ে সূক্ষ্মভাবে বসানো হয়েছিল সাত হাজারেরও বেশি মুক্তা, যা আলো পড়তেই তৈরি করছিল ঝলমলে ঢেউয়ের মতো এক অপূর্ব প্রতিফলন।

গাউনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল এর হাতে তৈরি মুক্তার কাজ। প্রতিটি মুক্তা এমনভাবে বসানো হয়েছে, যেন সমুদ্রের ঢেউ একটির পর একটি এসে মিলিয়ে যাচ্ছে। এই ত্রিমাত্রিক টেক্সচার পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে ভাস্কর্যের মতো সৌন্দর্য। অতিরিক্ত অলংকরণের পরিবর্তে সূক্ষ্ম কারুকাজকে গুরুত্ব দেওয়ায় পোশাকটি হয়ে উঠেছে ‘কোয়ায়েট লাক্সারি’র এক অনন্য উদাহরণ।

শুধু মুক্তাই নয়, পোশাকটির নাটকীয়তা এসেছে বিশাল আইভরি সিল্ক ট্যাফেটা ড্রেপিং থেকে। প্রায় ৪০ মিটার সিল্ক ব্যবহার করে কাঁধজুড়ে তৈরি করা হয়েছে ভলিউমিনাস রাফল, যা দূর থেকে দেখতে ফুলের পাপড়ির মতো লাগছিল। এই ভাস্কর্যধর্মী নকশাই পুরো লুককে দিয়েছে হাই ফ্যাশনের ছোঁয়া। লেবাননের বিখ্যাত ডিজাইনার টনি ওয়ার্ডের কারিগরি দক্ষতার অন্যতম নিদর্শন এই গাউন।

জানা গেছে, পোশাকটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ৬০০ ঘণ্টা। প্রতিটি ভাঁজ, প্রতিটি মুক্তা এবং প্রতিটি সেলাইয়ে ফুটে উঠেছে হাউট কতুরের সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম।

এত সমৃদ্ধ পোশাকের সঙ্গে ভারী গয়না ব্যবহার করলে পুরো লুক ভারসাম্য হারাতে পারত। তাই ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছেন মিনিমাল ডায়মন্ড জুয়েলারি। লম্বা হিরার ঝুমকা, আঙুলে একটি স্টেটমেন্ট ডায়মন্ড রিং এবং আর কোনো বাড়তি অলংকার ছিল না।

মেকআপেও ছিল পরিমিত সৌন্দর্যের ছাপ। উজ্জ্বল ত্বক, হালকা শিমারি আইশ্যাডো, নিখুঁত আইলাইনার, ভলিউম দেওয়া পাপড়ি এবং নরম নিউড-গোলাপি ঠোঁটে ছিল সফট গ্ল্যাম লুক। মুখে অতিরিক্ত কনট্যুর বা গাঢ় রঙের ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চুলেও ছিল তার চিরচেনা সিগনেচার স্টাইল। সাইড পার্ট করে রাখা সফট ওয়েভি হেয়ারস্টাইল পুরো লুককে দিয়েছে ক্লাসিক হলিউড গ্ল্যামারের আবহ।

বর্তমান ফ্যাশনে যেখানে মিনিমালিজম এবং স্টেটমেন্ট কতুর পাশাপাশি জনপ্রিয়, সেখানে ঐশ্বরিয়ার এই লুক দুটিরই নিখুঁত মেলবন্ধন। গাউনের বিশাল ভলিউম, মুক্তার সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং পরিমিত স্টাইলিং দেখিয়ে দিয়েছে, বিলাসিতা মানেই সবসময় অতিরিক্ত জাঁকজমক নয়; বরং নিখুঁত কারিগরি ও পরিশীলিত উপস্থাপনাই আসল সৌন্দর্য।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম বরাবরই স্টাইল আইকন হিসেবে উচ্চারিত হয়। ২০২৬ সালের এই অদেখা কতুর লুক সেই মর্যাদাকেই আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেছে। রেড কার্পেট শেষ হলেও তার ফ্যাশনের জাদু যে এখনও সমানভাবে আলোচনায় থাকতে পারে, এই লুকই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

৭ হাজার মুক্তার পোশাকে নতুন করে ঐশ্বরিয়ার প্রেমে ফ্যাশন বিশ্ব

আপডেট সময় ১২:৩৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

কান চলচ্চিত্র উৎসব আর ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম যেন একে অপরের পরিপূরক। বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় নিজের অনন্য উপস্থিতি দিয়ে ফ্যাশনপ্রেমীদের মুগ্ধ করে আসছেন তিনি।

২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নীল ঝলমলে মারমেড গাউন থেকে শুরু করে নাটকীয় সাদা ট্যাক্সিডো লুক-প্রতিটি উপস্থিতিই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউস টনি ওয়ার্ড কতুর যে অদেখা লুক প্রকাশ করেছে, সেটিই এখন ফ্যাশন জগতের নতুন আলোচনার বিষয়।

প্রথম দেখাতেই মনে হবে যেন কোনো রূপকথার রাজকন্যা সমুদ্রের ফেনা মেখে দাঁড়িয়ে আছেন। আইভরি-সাদা রঙের স্ট্র্যাপলেস গাউনটি ছিল একই সঙ্গে রাজকীয়, আধুনিক এবং শিল্পসম্মত। পোশাকটির পুরো বডিসজুড়ে সূক্ষ্মভাবে বসানো হয়েছিল সাত হাজারেরও বেশি মুক্তা, যা আলো পড়তেই তৈরি করছিল ঝলমলে ঢেউয়ের মতো এক অপূর্ব প্রতিফলন।

গাউনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল এর হাতে তৈরি মুক্তার কাজ। প্রতিটি মুক্তা এমনভাবে বসানো হয়েছে, যেন সমুদ্রের ঢেউ একটির পর একটি এসে মিলিয়ে যাচ্ছে। এই ত্রিমাত্রিক টেক্সচার পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে ভাস্কর্যের মতো সৌন্দর্য। অতিরিক্ত অলংকরণের পরিবর্তে সূক্ষ্ম কারুকাজকে গুরুত্ব দেওয়ায় পোশাকটি হয়ে উঠেছে ‘কোয়ায়েট লাক্সারি’র এক অনন্য উদাহরণ।

শুধু মুক্তাই নয়, পোশাকটির নাটকীয়তা এসেছে বিশাল আইভরি সিল্ক ট্যাফেটা ড্রেপিং থেকে। প্রায় ৪০ মিটার সিল্ক ব্যবহার করে কাঁধজুড়ে তৈরি করা হয়েছে ভলিউমিনাস রাফল, যা দূর থেকে দেখতে ফুলের পাপড়ির মতো লাগছিল। এই ভাস্কর্যধর্মী নকশাই পুরো লুককে দিয়েছে হাই ফ্যাশনের ছোঁয়া। লেবাননের বিখ্যাত ডিজাইনার টনি ওয়ার্ডের কারিগরি দক্ষতার অন্যতম নিদর্শন এই গাউন।

জানা গেছে, পোশাকটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ৬০০ ঘণ্টা। প্রতিটি ভাঁজ, প্রতিটি মুক্তা এবং প্রতিটি সেলাইয়ে ফুটে উঠেছে হাউট কতুরের সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম।

এত সমৃদ্ধ পোশাকের সঙ্গে ভারী গয়না ব্যবহার করলে পুরো লুক ভারসাম্য হারাতে পারত। তাই ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছেন মিনিমাল ডায়মন্ড জুয়েলারি। লম্বা হিরার ঝুমকা, আঙুলে একটি স্টেটমেন্ট ডায়মন্ড রিং এবং আর কোনো বাড়তি অলংকার ছিল না।

মেকআপেও ছিল পরিমিত সৌন্দর্যের ছাপ। উজ্জ্বল ত্বক, হালকা শিমারি আইশ্যাডো, নিখুঁত আইলাইনার, ভলিউম দেওয়া পাপড়ি এবং নরম নিউড-গোলাপি ঠোঁটে ছিল সফট গ্ল্যাম লুক। মুখে অতিরিক্ত কনট্যুর বা গাঢ় রঙের ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চুলেও ছিল তার চিরচেনা সিগনেচার স্টাইল। সাইড পার্ট করে রাখা সফট ওয়েভি হেয়ারস্টাইল পুরো লুককে দিয়েছে ক্লাসিক হলিউড গ্ল্যামারের আবহ।

বর্তমান ফ্যাশনে যেখানে মিনিমালিজম এবং স্টেটমেন্ট কতুর পাশাপাশি জনপ্রিয়, সেখানে ঐশ্বরিয়ার এই লুক দুটিরই নিখুঁত মেলবন্ধন। গাউনের বিশাল ভলিউম, মুক্তার সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং পরিমিত স্টাইলিং দেখিয়ে দিয়েছে, বিলাসিতা মানেই সবসময় অতিরিক্ত জাঁকজমক নয়; বরং নিখুঁত কারিগরি ও পরিশীলিত উপস্থাপনাই আসল সৌন্দর্য।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম বরাবরই স্টাইল আইকন হিসেবে উচ্চারিত হয়। ২০২৬ সালের এই অদেখা কতুর লুক সেই মর্যাদাকেই আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেছে। রেড কার্পেট শেষ হলেও তার ফ্যাশনের জাদু যে এখনও সমানভাবে আলোচনায় থাকতে পারে, এই লুকই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস