অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে। দেশের সবচেয়ে বড় এই বিতরণ কম্পানি প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে মামলা ও জরিমানা আদায় করছে।
তিতাস সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ২৫ হাজার ৬২৯টি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এই সময় তিতাস তাদের বিতরণ এলাকায় অভিযানের মাধ্যমে ২০৩টি শিল্প সংযোগ, ১২১টি বাণিজ্যিক সংযোগ ও ২৫ হাজার ৩০৫টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এ ছাড়া ৫৯ হাজার ৬৫৫টি বার্নার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ১২৯ কিলোমিটার পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে বলেও তিতাস জানিয়েছে।
তিতাস জানায়, তাদের অধীন রাজধানীর ধানমণ্ডি, মিরপুর, গুলশান, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীর চর, সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং কোম্পানির জনবল দিয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর অধীন এলাকায় শত শত কিলোমিটার অবৈধ গ্যাসলাইন পড়েছে।
বিভিন্ন সময় জ্বালানি বিভাগ, তিতাসসহ ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালালেও দৃশ্যমান সফলতা অর্জন করতে পারেনি। একদিকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, অন্যদিকে নতুন করে আবার অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছে।
সাধারণ মানুষের পাইপলাইনের গ্যাসের সুবিধা পাওয়ার আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশে গ্যাস বিতরণ কম্পানি এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা মিলে গড়ে তুলেছে অবৈধ গ্যাস সংযোগের সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট এতটা শক্তিশালী ছিল যে গ্যাস বিতরণ কম্পানি এবং সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছিল।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সহযোগী রয়েছেন।তিতাসের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগে অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন অপসারণ করতে গেলে নানামুখী রাজনৈতিক বাধা আসত, এখন আর সেটি আসছে না।
জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, নিয়মিত অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে এখন আমাদের সিস্টেম লস কিছুটা নিম্নমুখী। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে সিস্টেম লস ছিল ১৩-১৪ শতাংশের মতো। সেটি এখন কমিয়ে আনা হয়েছে।
আমাদের লক্ষ্য চলতি বছরের শেষ দিকে সিস্টেম লস কমিয়ে ৬-৭ শতাংশে নামিয়ে আনা। সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, যেসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে সেগুলোর পুনঃসংযোগ যাতে না হয় সার্বক্ষণিক মনিটর করতে জোনভিত্তিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নানা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ