ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী Logo বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবেন অমিত শাহ Logo অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সন্তোষজনক নয় : শিক্ষামন্ত্রী Logo রাজধানীতে তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের মামলায় ৫ আসামির রিমান্ড Logo ছানিপড়া রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন Logo টানা ২৫ মৌসুমে গোল করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড রোনালদোর Logo ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক Logo গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের Logo জেনেভা ক্যাম্পের কথিত ‘মাদক সম্রাট’ সেলিম ৩ দিনের রিমান্ডে Logo এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু, বাড়ল এলএনজি সরবরাহ

ভেনেজুয়েলায় নজির গড়ল গুগলের প্রযুক্তি

মাটি তখনও পুরোপুরি কাঁপতে শুরু করেনি। কিন্তু তার আগেই ভেনেজুয়েলার লাখো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি জরুরি সতর্কবার্তা—‘ভূমিকম্পের সম্ভাবনা, দ্রুত নিরাপদ স্থানে যান।’ কয়েক সেকেন্ড পরই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রযুক্তির এই দ্রুত সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনায় এনেছে একটি প্রশ্ন—মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্ক করা কি সত্যিই মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর উত্তর লুকিয়ে আছে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম (Android Earthquake Alerts System)-এ। এটি ভূমিকম্পের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেয় না; বরং ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে আগে ছড়িয়ে পড়া দুর্বল পি-ওয়েভ (Primary Wave) শনাক্ত করে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিল্ট-ইন মোশন সেন্সর মাটির সূক্ষ্ম কম্পন অনুভব করে। যখন একই অঞ্চলের বহু ফোনে একসঙ্গে এই অস্বাভাবিক কম্পন ধরা পড়ে, তখন গুগলের অ্যালগরিদম দ্রুত তা বিশ্লেষণ করে। যদি সেটি ভূমিকম্পের লক্ষণ হিসেবে নিশ্চিত হয়, তাহলে ধ্বংসাত্মক এস-ওয়েভ (Secondary Wave) পৌঁছানোর আগেই সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবহারকারীদের কাছে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

যদিও এই সময়ের ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক সেকেন্ড, তবুও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এর গুরুত্ব অসাধারণ। এই অল্প সময়েই মানুষ জানালা, ভারী আসবাব বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ অবস্থান নিতে পারেন। হাসপাতাল, স্কুল, কারখানা কিংবা গণপরিবহনেও এমন সতর্কবার্তা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার এই অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে যে, আধুনিক প্রযুক্তি কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং জীবন রক্ষার কার্যকর হাতিয়ারও হতে পারে। প্রচলিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি স্মার্টফোন নেটওয়ার্ক, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের সমন্বিত ব্যবহার ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাদের মতে, শুধু ভূমিকম্প নয়; বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেও দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে সরকারি সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ সময়ের দাবি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী

ভেনেজুয়েলায় নজির গড়ল গুগলের প্রযুক্তি

আপডেট সময় ১২:৪৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মাটি তখনও পুরোপুরি কাঁপতে শুরু করেনি। কিন্তু তার আগেই ভেনেজুয়েলার লাখো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি জরুরি সতর্কবার্তা—‘ভূমিকম্পের সম্ভাবনা, দ্রুত নিরাপদ স্থানে যান।’ কয়েক সেকেন্ড পরই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রযুক্তির এই দ্রুত সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনায় এনেছে একটি প্রশ্ন—মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্ক করা কি সত্যিই মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর উত্তর লুকিয়ে আছে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম (Android Earthquake Alerts System)-এ। এটি ভূমিকম্পের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেয় না; বরং ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে আগে ছড়িয়ে পড়া দুর্বল পি-ওয়েভ (Primary Wave) শনাক্ত করে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিল্ট-ইন মোশন সেন্সর মাটির সূক্ষ্ম কম্পন অনুভব করে। যখন একই অঞ্চলের বহু ফোনে একসঙ্গে এই অস্বাভাবিক কম্পন ধরা পড়ে, তখন গুগলের অ্যালগরিদম দ্রুত তা বিশ্লেষণ করে। যদি সেটি ভূমিকম্পের লক্ষণ হিসেবে নিশ্চিত হয়, তাহলে ধ্বংসাত্মক এস-ওয়েভ (Secondary Wave) পৌঁছানোর আগেই সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবহারকারীদের কাছে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

যদিও এই সময়ের ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক সেকেন্ড, তবুও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এর গুরুত্ব অসাধারণ। এই অল্প সময়েই মানুষ জানালা, ভারী আসবাব বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ অবস্থান নিতে পারেন। হাসপাতাল, স্কুল, কারখানা কিংবা গণপরিবহনেও এমন সতর্কবার্তা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার এই অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে যে, আধুনিক প্রযুক্তি কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং জীবন রক্ষার কার্যকর হাতিয়ারও হতে পারে। প্রচলিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি স্মার্টফোন নেটওয়ার্ক, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের সমন্বিত ব্যবহার ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাদের মতে, শুধু ভূমিকম্প নয়; বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেও দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে সরকারি সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ সময়ের দাবি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস