বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজ করছে সরকার : পরিবেশমন্ত্রী মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তা ও অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীনের ঐকমত্য বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা : অর্থমন্ত্রী বেসরকারি মেডিকেলে এমবিবিএস এ মেধাবীদের জন্য ৫% কোটা চালু রয়েছে চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার, আহত ৭০০ দিল্লির ভেটো উপেক্ষা: ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের নতুন যুগ দেশের রিজার্ভ ছাড়াল ৩৬ বিলিয়ন ডলার

দিল্লির ভেটো উপেক্ষা: ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের নতুন যুগ

সাখাওয়াত হোসেন বাদশা
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

  • দেশেই ড্রোন কারখানা: চীনের প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে মিলিটারি ড্রোন উৎপাদন!

  •  তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পাংশা গঙ্গা ব্যারেজ কূটনীতিতে চীনের মেগা এন্ট্রি!

  • বুলেট ট্রেন কূটনীতি: ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-বগুড়া রুটে আসছে চীনের হাই-স্পিড ট্রেন !

  • আকাশ প্রতিরক্ষায় ‘মাস্টারস্ট্রোক’: বেইজিং থেকে আসছে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান !

  • লালমনিরহাটে চীনের এভিয়েশন হাব: দিল্লির ‘চিকেনস নেক’ করিডোরে নতুন মনস্তাত্ত্বিক চাপ!

গত দেড় দশকে ভূরাজনৈতিক নাট্যমঞ্চে ঢাকার ক্ষমতার অলিন্দে যে সমীকরণ দেখা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে তা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। দীর্ঘ দেড় যুগের টানাপোড়েন এবং বরফ শীতল অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বেইজিংয়ের রেড কার্পেটে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এই সফরের সবচেয়ে বড় চমক কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নয়, বরং সফরের ‘ফ্লাইট ম্যানিফেস্ট’ বা সফরসঙ্গীদের তালিকা। স্পষ্ট বার্তা মিলেছে—ঢাকার কূটনীতি থেকে কার্যত ‘ছিটকে’ পড়েছেন দীর্ঘদিনের চেনা ভারতপন্থী বলয়ের নেতারা। কৌশলগত কারণে দিল্লি ও ওয়াশিংটনকে কিছুটা দূরত্বে রেখে মালয়েশিয়াকে ট্রানজিট বানিয়ে বেইজিং পৌঁছানো—সব মিলিয়ে এই সফর বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করছে।

​তারেক রহমানের এই চীন সফর প্রমাণ করছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন আর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেশী দেশের প্রেসক্রিপশনে চলছে না। বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সামরিক কৌশলকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ নিজের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে চায়। ভারতপন্থীদের এই ‘মহাপ্রস্থান’ এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে তিস্তা-লালমনিরহাট-বুলেট ট্রেনের নতুন সমীকরণ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ঢাকাকে এক নতুন ও স্বাধীন পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

তারেক রহমানের এই চীন সফরকে প্রতিরক্ষা ও পানিসম্পদে ‘মাস্টারস্ট্রোক’হিসাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মূলত এই সফরে  বেইজিং থেকে নতুন জেনারেশনের ২৪টি যুদ্ধবিমান ক্রয়,  পাংশা গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প নির্মাণে সহায়তা, ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট’ বা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিনিয়োগ, লালমনিরহাটে চীনের সহযোগিতায় বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, ওভারহলিং এবং অ্যাভিয়েশন লজিস্টিকস হাব স্থাপনের পরিকল্পনা  এবং বুলেট ট্রেন চালু এবং চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে মিলিটারি ড্রোন  (ইউএভি)  উৎপাদন প্রযুক্তি হস্তান্তর (টিওটি) সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও বড় চুক্তি হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান এই বেইজিং সফর একখথায় ভারতের উদ্বেগ-উৎকন্ঠাকে বহমাত্রিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। একইসাথে প্রধানমন্ত্রীর সরকারের মধ্যে যারা ভারতপন্থী হিসাবে চিহ্নিত তাদের কপালের বলিরেখাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বৈরিতা বরফ গলার নেপথ্য ইতিহাস

​২০০৪ সালে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উদ্যোগে ঢাকায় তাইওয়ানের কনস্যুলেট (ব্যবসা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত কূটনৈতিক) কার্যালয় খোলার পর থেকেই চীনের সঙ্গে সম্পর্কে বড় ফাটল ধরেছিল। বেইজিংয়ের ‘এক চীন নীতি’র পরিপন্থী এই সিদ্ধান্তের কারণে দীর্ঘদিন ক্ষুব্ধ ছিল চীন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এসে সেই কার্যালয় বন্ধ করলেও বেইজিংয়ের আস্থা ফেরেনি। এমনকি ২০২৪ সালের জুনেও যখন বিএনপির আন্তর্জাতিক কমিটিতে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী বা শামা ওবায়েদদের মতো ‘ভারত বলয়ের’ নেতাদের দাপট দেখা যায়, তখন বেইজিংয়ের দূরত্ব আরও বাড়ে।

​তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দৃশ্যপট আমূল বদলে যায়। বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগ রক্ষা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে চীন তার পুরোনো ক্ষোভ ভুলে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। যুব ও ছাত্র নেতাদের চীন সফর এবং বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ের বেইজিং দৌড়ঝাঁপ অবশেষে দেড় যুগের সেই জমে থাকা বরফ গলিয়ে দিয়েছে।

বেইজিংয়ের বিমানে যার ঠাঁই হলো না

​প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ভারতপন্থী লবিস্টদের বাদ পড়া। এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির থাকলেও দেখা মেলেনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির শীর্ষনেতা শামা ওবায়েদের। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বদলে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক ও পরিকল্পনা বিষয়ক ডিরেকশন সামলাচ্ছেন উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অতিমাত্রার ভারতপন্থী ও শেখ কামালের বন্ধু হিসাবে পরিচিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পরিবর্তে বেইজিং গেছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অন্যদিকে, পরিবেশ ও জলবায়ুর বিশাল এজেন্ডা থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুকে রাখা হয়নি এই সফরে।

তরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন (যিনি আশির দশকে চীনপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী’র সভাপতি ছিলেন) এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে রয়েছেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা: দিল্লির ওপর বড় ধাক্কা

​পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বেইজিং সফরে থাকা প্রমাণ করে—এই সফরের অন্যতম মূল এজেন্ডা ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট’ বা তিস্তা মহাপরিকল্পনা।

​ভারত বছরের পর বছর তিস্তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেছে। বিগত সরকার তিস্তা প্রকল্পে চীনকে যুক্ত করতে চাইলেও দিল্লির আপত্তিতে তা থমকে গিয়েছিল। এবার বেইজিংয়ের প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে তিস্তা নদী খনন, পাড় বাঁধাই এবং কৃত্রিম জলাধার নির্মাণের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। এটি কার্যকর হলে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও অর্থনীতিতে ভারতের পানির ওপর নির্ভরতা ৯০% কমে যাবে, যা দিল্লির জন্য একটি বড় ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত ধাক্কা।

পাংশা গঙ্গা ব্যারেজ: দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের মরণফাঁদ ভাঙার মাস্টারপ্ল্যান

​তিস্তা চুক্তির পাশাপাশি এই সফরের অন্যতম গোপন ও বড় চমক হলো রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা (গঙ্গা) নদীর ওপর ‘গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করা।

​বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আপত্তির মুখে শেখ হাসিনা এই প্রকল্পটিকে   ‘আত্মঘাতী আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করে দেয়। এতে করে ২০১৭ সালে  প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল বা স্থগিত হয়ে যায়। অথচ ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো শুকিয়ে মরুভূমি হওয়া এবং সুন্দরবন অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ঠেকাতে এই ব্যারেজ ছিল অত্যন্ত জরুরি। এখানে ভারতের আচরণ যে কতোটা বাংলাদেশ বিদ্বেষী তার প্রশাণ মিলে- যখন বাংলাদেশ ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছেনা বলে আপত্তি তুলেছে, তখন ভারতের পক্ষ থেকে বলা হতো-তোমাদের পানি দিলেতো তা ধরে রাখতে পারোনা। তোমাদের সব পানিতো বঙ্গপসাগরে চলে যায়। আবার বাংলাদেশ যখন সমীক্ষা শেষ করে পাংশায় বর্ষার পানি ধরে রাখার জন্য গঙ্গা ব্যারেজ বানানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হয়েছে, তখন ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো-তোমার গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পটি আত্মঘাতি। আর শেখ হাসিনা ভারতকে খুশি করতে এই প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছিলেন।

জানা যায়, বেইজিংয়ের ‘চায়না চ্যাংকিয়াং সার্ভে, প্ল্যানিং, ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ’ (সিএসপিডিআর) এর পূর্ববর্তী সমীক্ষাকে ভিত্তি করে চীন এই প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হয়েছে। প্রায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কংক্রিট ব্যারেজটি নির্মিত হলে নদীর উজানে প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশাল কৃত্রিম জলাধার তৈরি হবে, যা ২.৯ বিলিয়ন ঘনমিটার বর্ষার উদ্বৃত্ত পানি ধরে রাখবে।

​এই সংরক্ষিত পানি শুষ্ক মৌসুমে গড়াই, মধুমতী, চন্দনা ও মাথাভাঙ্গার মতো অন্তত ১৫টি আঞ্চলিক নদীতে প্রবাহিত করা হবে। ফলে দেশের ২৬টি জেলায় কৃষি সেচ নিশ্চিত হবে, সুন্দরবন রক্ষা পাবে এবং প্রায় ১০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

তিস্তা প্রকল্পের পর পাংশায় গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণেও চীনের যুক্ত হওয়া মানে পানি-কূটনীতিতে ভারতের একক আধিপত্যের অবসান। বেইজিংয়ের এই দুই মেগা ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট এবং জে-১০সিই যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক সুরক্ষাকে দিল্লির ‘ভেটো’ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার পথে এক চূড়ান্ত পদক্ষেপ।

বেইজিং থেকে আসছে জে১০সিই ফাইটার জেট

​বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর (বিএএফ) আধুনিকায়নের আওতায় এই সফর হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় মাইলফলক। বিমানের পুরনো এফ-৭ স্কোয়াড্রন পরিবর্তন করে আকাশসীমায় দীর্ঘপাল্লার আধিপত্য বজায় রাখতে চীন থেকে ২৪টি জে১০সিই মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। চুক্তিটি সম্পূর্ণ রূপ পেলে এর আর্থিক আকার দাঁড়াবে প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রতিটি এয়ারফ্রেমের আনুমানিক মূল্য ৪০ মিলিয়ন ডলার)। দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি বা সহজ ফাইন্যান্সিং সুবিধায় আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।  ‘ভিগোরাস ড্রাগন’ নামে পরিচিত এই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি উন্নত ‘এইএসএ’ রাডার এবং ‘পিএল-১৫’ এর মতো দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল বহনে সক্ষম। এটি বঙ্গোপসাগর এবং সীমান্ত অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দেবে।

লালমনিরহাট এয়ারবেইস সামরিক সমীকরণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল লালমনিরহাট এয়ারবেইস (বিমানিক ঘাঁটি) নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে গভীর আলোচনা চলছে। লালমনিরহাটের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা বিখ্যাত ‘চিকেনস নেক’ (যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোকে যুক্ত করেছে) এর অত্যন্ত কাছে। সেখানে চীনের প্রযুক্তিগত ও সামরিক অবকাঠামোগত উপস্থিতি দিল্লির সামরিক থিঙ্কট্যাংকগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে (ফোর্সেস গোল) চীনের তৈরি সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নতুন স্কোয়াড্রন কেনার বিষয়েও বেইজিংয়ের সবুজ সংকেত মিলতে পারে।

বুলেট ট্রেনের গতিতে অবকাঠামো উন্নয়ন

​চীন সরকারের বিশেষ পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিংয়ে বুলেট ট্রেনে ভ্রমণ কেবলই একটা সৌজন্যমূলক সফর নয়। এটি শি জিনপিং সরকারের একটি সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক বার্তা। বেইজিংয়ের অর্থায়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা-বগুড়া রুটে বাংলাদেশের প্রথম হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন প্রকল্প চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত এই সফরেই আসতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com