মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য মাল‌য়ে‌শিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার সফলতা কামনা প্রতিমন্ত্রীর নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: সেতুমন্ত্রী নকল শব্দটির কবর দিয়েছি, আর কথা বলতে চাই না : শিক্ষামন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি নির্ধারিত হবে আদালতে নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: সেতুমন্ত্রী ফ্রান্সে তীব্র গরম-তাপপ্রবাহে ২ দিনে ১৮ জনের মৃত্যু চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আলোচনায় থাকবে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান, শিগগিরই চুক্তির সম্ভাবনা

বাংলা 71 নিউজ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিএনপি সরকার গঠনের পরও এই প্রতিরক্ষা নীতি সচল রয়েছে। চীন থেকে ওই যুদ্ধবিমানগুলো কেনার আলাপ-আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি করার কথা ভাবছে সরকার।

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসবেন তিনি। বৈঠকে চীন থেকে জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা হবে।  

সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, চীন থেকে জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এটা নিয়ে কথাবার্তা হবে, এটা নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু এ সফরে কোনো চুক্তি হবে না, নেগোসিয়েশন হবে। আমরা আশা করছি, খুব শিগিগিরই এ নিয়ে একটা চুক্তি সই হবে।

গত শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের বিস্তারিত তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সামরিক কেনাকাটার বিষয়ে সফরে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সামরিক কেনাকাটার বিষয়ে আলোচনা কর্মকর্তা পর্যায়ে হয়ে থাকে।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় একটা সম্পর্ক রয়েছে। ক্রয়-বিক্রয় করব কিনা, লিডারশিপ পর্যায়ে ওগুলো আসলে যে আলোচনা হয় তা না, সেগুলো অপারেটিভ লেভেলে হয়। নিশ্চয়ই আমরা দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা যেটা আছে, সেটা নিয়ে আলোচনা করব।

গত বছরের মার্চে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের সময় চীনের কাছ থেকে মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ ধরা হয়। পরবর্তী সময়ে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও এই প্রতিরক্ষা নীতি সচল রেখেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য চুক্তি করতে চায় সরকার। বিমান বাহিনীর বর্তমান বহরে থাকা পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পরিবর্তন করে আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই আধুনিক ফাইটার জেটগুলো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমানে যেসব যুদ্ধবিমান রয়েছে সেগুলো বেশ পুরোনো মডেলের। আমাদের যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন আছে। যতদূর জানি চীন থেকে জঙ্গিবিমান কেনার আলাপ-আলোচনা চলছে।  

উল্লেখ্য, জে-১০ সিই জঙ্গিবিমান মূলত চীনের বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত জে-১০সি-এর রপ্তানি সংস্করণ। গত বছর ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে পাকিস্তান ফ্রান্সের তৈরি ভারতের একাধিক রাফায়েল যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে। এরপরেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে জে-১০ সিই।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলেও যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা ছিল। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়। সেসময় বাংলাদেশ ফ্রান্সের তৈরি রাফাল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইউরো ফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬–– এই তিনটি থেকে কোন যুদ্ধবিমান কেনা হবে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দুইদিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। সেসময় ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয় হয় বাংলাদেশকে। তবে আর্থিক সংকটে এসব আলোচনা আর সামনে এগোয়নি।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com