বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজধানী ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা, জানলেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের সদর হাসপাতালগুলোতে সিসিইউ চালু করা গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব : জুবাইদা রহমান সংবিধান সংস্কারে সুযোগ না পেলে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চলবে সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত এভারকেয়ারে নজরুল ইসলাম খান, ভিড় না করার অনুরোধ চিকিৎসকদের টেক্সটাইল, গবেষণা ও কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন সরকার জনগণের প্রতি খুবই আন্তরিক : হুমায়ুন কবির

উজানের ঢলে হুমকিতে চলনবিলের ধান

নাটোর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও সদর উপজেলার চলনবিল ও হালতি বিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে আগাম বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন খাল দিয়ে বিলাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

এতে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধাপাকা ধান কেটে দ্রুত ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে পাকা ধান থাকলেও কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে। তবে রোদের অভাবে ধান শুকাতে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। জোড়মল্লিকা, সারদানগর-হুলহুলিয়া, কতুয়াবাড়ি, রাখালগাছা ও পৌর শ্মশানঘাট খাল দিয়ে নদীর পানি চলনবিলে প্রবেশ করছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসী নিজেদের অর্থে বালুর বস্তা ও মাটির বাঁধ নির্মাণ করে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। পুরুষদের পাশাপাশি মাঠে ধান কাটতে নেমেছেন নারীরাও।

হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘১২ বিঘা জমির ধান এখন পানির ঝুঁকিতে। দ্রুত কাটতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’ আরেক কৃষক হানিফ প্রামাণিক জানান, শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের পাওয়া যাচ্ছে, তাদের দ্বিগুণ মজুরি দিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় স্লুইসগেট নষ্ট ও খালের মুখ অরক্ষিত থাকায় পানি দ্রুত বিলে ঢুকে পড়ছে। বিশেষ করে কতুয়াবাড়ি ও উত্তর দমদমা জোলারবাতা স্লুইসগেট এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে স্থানীয়রা বালুর বস্তা ফেলে পানি ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

একসঙ্গে ধান কাটার চাপ বাড়ায় শ্রমিক সংকটও তীব্র হয়েছে। আগে যেখানে একজন শ্রমিকের মজুরি ছিল ৭০০ টাকা, সেখানে এখন দিতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। এতে বাড়তি খরচের চাপে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা, রুহাই, পিপলা এবং নাটোর সদর উপজেলার হালতি বিলের মাধনগর, খাজুরিয়া, খোলাবাড়িয়া ও বীরকুটশাসহ অসংখ্য গ্রামের একই অবস্থা। পানি আরও বাড়লে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে নাটোর জেলায় ৬০ হাজার ৭৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকরা সম্মিলিতভাবে ঢলের পানি প্রতিরোধে কাজ করছেন। আগাম বন্যায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অর্ধেকের বেশি জমির ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com