
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন যে, ইরানের সাথে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র যে পারমাণবিক চুক্তির আলোচনা চালাচ্ছে, তা ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও কার্যকর হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ডেমোক্র্যাট নেতা এবং কয়েকজন পরমাণু বিশেষজ্ঞ যখন এই অত্যন্ত জটিল বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ো করে আলোচনা শেষ করার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, ঠিক তখনই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন যে, তাদের তৈরি করা নতুন চুক্তিটি জেসিপিওএ বা বহুল পরিচিত ‘ইরান পারমাণবিক চুক্তি’র চেয়ে অনেক ভালো হবে।
এর বাইরে সোমবার ‘দ্য জন ফ্রেডরিকস শো’ নামক একটি রক্ষণশীল রেডিও অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারা আলোচনায় আসবেই; আর যদি না আসে, তবে তারা এমন সমস্যার সম্মুখীন হবে যা আগে কখনো দেখেনি।’ ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, ইরান একটি ন্যায্য চুক্তিতে আসবে এবং এর মাধ্যমে তারা তাদের দেশকে পুনর্গঠন করার সুযোগ পাবে, তবে শর্ত একটাই ‘তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না’।
ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। এটি এমন নয় যে আমাদের সামনে বিকল্প পথ ছিল, আমাদের এটি করতেই হতো।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, আমেরিকা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে এবং শিগগিরই এই সংকটের একটি সফল সমাধান আসবে যা সবাইকে সন্তুষ্ট করবে।
২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প এই জেসিপিওএ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন এবং এটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইরানে আক্রমণ চালাচ্ছে। বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে যা বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চললেও, ইরানের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানো বেশ কঠিন। কারণ, ২০১৫ সালের চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল এবং এতে পরমাণু পদার্থবিদ্যা, নিষেধাজ্ঞা, অর্থ ও আইন বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ২০০ জন দক্ষ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পের দাবি, তার ওপর কোনো চাপ নেই এবং সবকিছু বেশ দ্রুতই ইতিবাচকভাবে শেষ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ইরানের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ। ‘শুজা ২’ নামের এই জাহাজটির হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার খবর দিয়েছে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে শহীদ রাজায়ী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে এটি ভারতের কান্ডলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, তারা তাসনিম নিউজের এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে সমুদ্রযান চলাচল পর্যালোচনাকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতেই অবস্থান করছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শুজা ২-এর গন্তব্য ভারত।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস