
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সরাসরি আলোচনা চলছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব, বিশেষ করে ইরানি জনগণ।
ইসলামাবাদের বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল সেরেনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় দেশের প্রতিনিধিরা প্রথম দফায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর রাতের খাবারের বিরতিতে যান। সংক্ষিপ্ত বিরতিতে শেষে দ্বিতীয় দফায় ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে জড়িত ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে টোল এবং ইরানিদের দাবিকৃত সম্পদ অবমুক্ত করাসহ ইরানের মৌলিক শর্তগুলোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায় এবং অনেক কিছুই নিশ্চিত হওয়া বাকি, কিন্তু একটি বড় ধরনের অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী পাকিস্তানি মধ্যস্ততাকারীরা। সেক্ষেত্রে ইরানের বড় কূটনৈতিক বিজয় হতে পারে।
পাকিস্তান সরকারের সূত্রে বরাতে বিবিসি উর্দুও জানিয়েছে, প্রাথমিক আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর কারিগরি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হবে’।
এদিকে ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সাহসিকতার সঙ্গে আলোচনা’ চালিয়ে যাবে প্রতিনিধিদলটি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি যাই হোক, জনগণের সেবায় আমাদের কাজ এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকবে না। আলোচনার ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সরকার সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।’
এরআগে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় ইসলামাবাদের বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল সেরেনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি আলোচনা শুরু হয়।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে ইরানের নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। উপস্থিত ছিলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসসহ দেশটির আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বধীন মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।
মধ্যস্ততায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে ছিলেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
এদিকে আলোচনাকে ঘিরে বর্তমানে শত শত সাংবাদিক হোটেল সেরেনা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ইসলামাবাদের প্রধান সম্মেলন কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আলোচনাস্থল হোটেলটিতে কোনো সাংবাদিক প্রবেশ করতে দেয়নি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।
লেখক: পাকিস্তানের ‘বোল’ টিভির নির্বাহী সম্পাদক ও এপির ইসলামাবাদ করেসপন্ডেন্ট
বাংলা৭১নিউজ/জেএস