
ইরানে ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের এক পাইলটকে উদ্ধার অভিযানের সময় সেখানে আটকে পড়া নিজেদের দুটি পরিবহন প্লেন ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (৫ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
অন্যদিক, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) এবং পুলিশ আলাদাভাবে দাবি করেছে, তারা ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন সি-১৩০ সহায়ক প্লেন ভূপাতিত করেছে।
ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের অস্ত্র কর্মকর্তা একজন কর্নেল ছিলেন। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের পাহাড়ি এলাকায় ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে থাকার পর রোববার ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাকে উদ্ধার করে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, কমান্ডো বাহিনী এবং উদ্ধার করা পাইলটকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে নির্ধারিত দুটি মার্কিন পরিবহন প্লেন ইরানের ভেতরে একটি দূরবর্তী ঘাঁটিতে বিকল হয়ে পড়ে।
সংবেদনশীল সরঞ্জামসহ এসব প্লেন ইরানের হাতে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে কমান্ডাররা সেগুলো ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। পরে বিকল্প হিসেবে আরও তিনটি প্লেন পাঠিয়ে সব মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সিবিএস নিউজ নিশ্চিত করেছে, আটকে পড়া কর্মকর্তার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় মার্কিন কমান্ডোরা ইরানি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে মার্কিন আক্রমণকারী প্লেনগুলো ইরানি গাড়িবহরের ওপর বোমা হামলা ও গুলি চালায়।
দুই কর্মকর্তা সিবিএসকে জানান, ভূপাতিত কর্মকর্তা একটি বীকন ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার করে উদ্ধার বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছিলেন, তবে আত্মরক্ষার জন্য তার কাছে শুধু একটি পিস্তল ছিল।
কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অভিযানে যুক্ত মার্কিন বাহিনীতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে আইআরজিসি ও বাসিজ সদস্যদের হতাহত অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম, রেভল্যুশনারি গার্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেছে, ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজতে থাকা একটি ‘মার্কিন শত্রু প্লেন’ তারা ধ্বংস করেছে।
এছাড়া ইরানের পুলিশ কমান্ড (ফারাজা) দাবি করেছে, তাদের কমান্ডো ইউনিট ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে ‘বিপুল গোলাবর্ষণের মাধ্যমে’ একটি মার্কিন সি-১৩০ সহায়ক প্লেন ধ্বংস করেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে তাসনিম জানিয়েছে, প্লেনটি একটি রিফুয়েলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বা সেন্টকম এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বা অস্বীকারমূলক মন্তব্য করেনি। যুদ্ধ চলাকালে ইরান একাধিকবার মার্কিন প্লেন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যার কিছু এখনো যাচাই হয়নি।
এই উদ্ধার অভিযানে শত শত বিশেষ বাহিনীর সদস্য, ডজনখানেক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, পাশাপাশি সাইবার, মহাকাশ ও গোয়েন্দা সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা একে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে কঠিন ও জটিল’ অভিযানের একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এছাড়া, সিআইএ-ও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ইরানের ভেতরে বিভ্রান্তিমূলক কৌশল পরিচালনা করে এবং ‘বিশেষ সক্ষমতা’ ব্যবহার করে পাহাড়ের একটি ফাটলে লুকিয়ে থাকা কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্ত করে।
সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে, নিউইয়র্ক পোস্ট
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ