সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ফের বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত ৩০ মিয়ানমার সীমান্তের ভূমিকম্পে কাঁপল চট্টগ্রাম অঞ্চল দরিদ্রদের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট বানাবে সরকার নতুন অর্থবছরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্টাডি শেষ করে বাস্তবায়ন শুরু ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ১ হাজার মানুষের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিম্ন-মধ্যবিত্তের ভরসা পাঙ্গাস-তেলাপিয়া ও ব্রয়লারে

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি চাপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। মাছ ও মাংসের অধিকাংশ পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন তুলনামূলক কম দামের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া মাছ এবং পোল্ট্রি বা ব্রয়লার মুরগির ওপর নির্ভর করছে। ফলে এসব পণ্যের চাহিদাও বাজারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে পাঙ্গাস মাছ কেজি প্রতি ১৮০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০-২২০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় এসব মাছ কিনতে ভিড় করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

পোল্ট্রি মুরগির বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগি কেজি প্রতি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক পরিবার সপ্তাহজুড়ে একাধিকবার মাংস খাওয়ার জন্য পোল্ট্রি মুরগিই বেছে নিচ্ছে।

ডিমের দামও কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও সেটিও অনেক পরিবারের জন্য হিসাব কষে কেনার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানে সেহরি ও ইফতারে সহজে রান্না করা যায় বলে ডিমের চাহিদাও বেশ রয়েছে।

তবে বাজারে অন্য মাছের দাম এখনো বেশ চড়া। বর্তমানে রুই মাছ কেজি প্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৮০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, শিং মাছ ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং পাবদা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বোয়াল মাছের দাম কেজি প্রতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এসব মাছ কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতাকেই পিছিয়ে যেতে দেখা গেছে।

মাংসের বাজারেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বর্তমানে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যার কেজি প্রতি দাম ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। ফলে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিয়মিত গরু বা খাসির মাংস কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ক্রেতাদের মতে, রমজানে সাধারণত পরিবারের খাবারের খরচ কিছুটা বেড়ে যায়। কিন্তু বাজারে মাছ ও মাংসের দাম বেশি থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে সাশ্রয়ী পণ্যের দিকেই ঝুঁকছেন।

রাজধানীর একটি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘আগে মাঝে মাঝে বড় মাছ বা গরুর মাংস কেনা হতো। এখন সেটা অনেক কমে গেছে। পাঙ্গাস, তেলাপিয়া আর পোল্ট্রি মুরগিই বেশি কিনতে হচ্ছে। এগুলোই এখন আমাদের ভরসা।’

আরেক ক্রেতা বলেন, ‘রমজানে খরচ এমনিতেই বেশি থাকে। তার ওপর বাজারে মাছ ও মাংসের দাম এত বেশি যে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই হিসাব করে বাজার করতে হচ্ছে।’

বিক্রেতাদের মতে, কম দামের মাছ ও পোল্ট্রি মুরগির বিক্রি এখন তুলনামূলক বেশি। এক মাছ বিক্রেতা জানান, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার বিক্রি এখন বেশি। কারণ দাম কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এগুলোই বেশি নিচ্ছেন। বড় মাছের দিকে অনেকেই তাকিয়েই থাকছেন, কিন্তু কিনতে পারছেন না।

এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, ‘পোল্ট্রি মুরগির চাহিদা এখন অনেক বেশি। অনেকেই গরুর মাংস না কিনে পোল্ট্রি মুরগি নিচ্ছেন। তাই বিক্রিও ভালো হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি ও উৎপাদন ব্যয়ের প্রভাবেই মাছ ও মাংসের দাম বেড়ে রয়েছে। দাম স্থিতিশীল না হলে রমজানের বাকি সময়েও সাধারণ মানুষের বাজারের চাপ কমবে না।

সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের এই সময়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই সাশ্রয়ী খাবারের ওপর নির্ভর করেই রমজানের সংসার চালাচ্ছেন। পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ও পোল্ট্রি মুরগিই এখন তাদের খাবারের তালিকায় প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com