শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন

ইরানে হামলার ছক চূড়ান্ত, ট্রাম্পের নিশানায় কারা?

বাংলা৭১নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন নতুন করে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং তার ‘আক্রমণ করো আর সটকে পড়ো’ কৌশলের কারণে ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন আর আগের মতো দীর্ঘমেয়াদী সেনা মোতায়েন বা রাষ্ট্র গঠনের মতো ব্যয়বহুল পথে হাঁটছে না বরং ক্ষিপ্র গতির সামরিক অভিযান চালিয়ে দ্রুত জয় হাসিল করার নীতি গ্রহণ করেছে।

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনা ট্রাম্পকে এই কৌশলে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার অভিযানে কোনো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক বাধা না আসায় এখন ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক। সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ দমনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশটিতে বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। 

যদিও বুধবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা থামানো হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সামরিক প্রস্তুতির কোনো কমতি দেখা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে কাতার থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে আকাশপথে বড় ধরনের অভিযানের ছক কষছে পেন্টাগন।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন মডেলটি হলো ‘স্বল্প খরচে সরকার পরিবর্তন’। যেখানে আগের প্রশাসনগুলো হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বছরের পর বছর পড়ে থাকত, ট্রাম্প সেখানে প্রক্সি বা ছায়াযুদ্ধ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন।

ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে এই কৌশল সফল হওয়ার বড় কারণ ছিল দেশটির ভঙ্গুর সামরিক ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির কারণে ভেতর থেকে ফেটে পড়া শাসনকাঠামো। ইরানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগাতে চায়।

বছরের পর বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক ধসে বিপর্যস্ত ইরান এখন ভেতর থেকেই অস্থির হয়ে উঠেছে। এই সুযোগে সরাসরি স্থলযুদ্ধ এড়িয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আকাশপথের শক্তিতে ইরানকে কোণঠাসা করাই এখন ওয়াশিংটনের মূল কৌশল।

তবে ইরানের সামরিক শক্তি ভেনেজুয়েলার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকির কারণও হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সেনাবাহিনী একই সাথে ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের মতো দুটি বড় ফ্রন্টে জটিল সামরিক পরিকল্পনা পরিচালনা করার সক্ষমতা নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় মাথাব্যথার কারণ। তা সত্ত্বেও, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত থাকা এবং চীন তাইওয়ান নিয়ে মনোযোগী থাকায় বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই একাধিপত্য বিস্তার অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই ‘খেলনা’ হিসেবে পরিচিত সামরিক শক্তি ইরানের ওপর প্রয়োগ করলে তা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com