সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
ভারতে পাচার হওয়া ৬ কিশোরী অবশেষে দেশে ফিরল সুমনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ : নুসরাতের মা সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে : প্রধানমন্ত্রী আজীবন ছাত্রদল করার ভাবনা সঠিক না : গয়েশ্বর আমি সংসদে দাঁড়ালেই ৩০০ এমপি উত্তেজিত হন : সংসদে রুমিন নৌকার মিছিলে যাওয়ায় বাড়িঘর ভাঙচুর প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ৩ জনের বিষপান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় সূত্রাপুরে ১১ ফার্মেসিকে জরিমানা সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে ফেনী পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে মোয়াজ্জেমকে ছেলের হাতে মা খুন চলতি সপ্তাহেই খালেদার জামিন : মওদুদ ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়েও শক্তিশালী : আপিল বিভাগ ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার খোলার রাতেই বন্ধ সৌদির ‘হালাল নাইটক্লাব’, ফিরে গেলেন পশ্চিমা শিল্পী ভারতের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে পাকিস্তান নুসরাত হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করবে সরকার হলমার্কের জেসমিনের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ সেবার মান বাড়াতে ‘কমিউনিটি অ্যাম্বাসাডর’ চালু করবে ডিএসসিসি শিগগিরই নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করতে চায় সরকার
খালেদার আদালত স্থানান্তর বাতিল চেয়ে রিটের শুনানি আজ

খালেদার আদালত স্থানান্তর বাতিল চেয়ে রিটের শুনানি আজ

বাংলা৭১নিউজ,ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য পুরান ঢাকার কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে করা রিটের শুনানি আজ মঙ্গলবার।

আজ হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গতকাল সোমবার শুনানিতে সাপ্লিমেন্টারি নথিপত্র এফিডেভিট আকারে দাখিলের জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় প্রার্থনা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর আদালত শুনানি আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করে আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী। তাদেরকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর হেলাল উদ্দিন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

শুনানি শেষে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আজ (সোমবার) বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে কিছু সাপ্লিমেন্টারি নথিপত্র দাখিল করা হয়। কিন্তু এসব নথিপত্র এভিডেভিড করা ছিল না। তখন এসব নথিপত্র এভিডেভিড করার জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় চাওয়া হলে আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’

এর আগে খালেদা জিয়ার প্যানেলের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান জানান, গত (২৬ মে) আদালতের অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ অন্য আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিটটি করেন। পরের দিন সোমবার (২৭ মে) রিটের শুনানি করতে গেলে মামলায় হাইকোর্টের আদেশের পর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) পক্ষভুক্ত করা হয়।

এর পরের দিন (২৮ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলাটি শুনানি শুরু করে ১০ জুন পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল শুনানি না হয়ে আজ শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন আদালত।

খালেদার পক্ষে দায়ের করা রিটে দাবি করা হয়েছে, গত ১২ মে জারি করা গেজেট সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ-বহির্ভূত একটা পদক্ষেপ। পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ধারা ৯ এর (১) ও (২) উপ-ধারাবিরোধী।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিচারে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ জজ আদালত-৯ কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থানান্তরে গত ১২ মে জারি করা গেজেট কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে রিটে। রুলের নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত জারি করা ওই গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আদালতের অনুমতি নিয়ে রিটটি দায়েরের পর তা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করেছিলেন। তাই আদালতে রিট গ্রহণ করে শুনানির জন্য বলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালদা জিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে পিজিতে আছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থাৎ গত ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উনার (খালেদা জিয়ার) নাইকো মামলাটি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত থেকে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এ আইনজীবী আশা করছেন, খালেদা জিয়া করাকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে ন্যায়বিচার পাবেন এবং কেরানীগঞ্জের কারাগার যে আদালত স্থাপন করা হয়েছে সেটা হাইকোর্ট বাতিল করবেন।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া একজন পাবলিক ফিগার। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো ট্রায়াল পাবলিকলি হওয়া উচিত। কেরানীগঞ্জের কারাগারের একটি রুমে কখনো পাবলিক ট্রায়াল হতে পারে না। পাশাপাশি যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জের কারাগারে যে আদালত স্থাপন করা হয়েছে, সেই কারাগারটি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে। আইনে আছে, মামলাটা মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে হতে হবে।’

এর আগে আদালত স্থানান্তরে জারি করা গেজেট বাতিল চেয়ে গত ২১ মে আইন সচিবকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়। সে নোটিশে গত ১২ মে জারি করা গেজেট বাতিলে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে গত ১২ মে জারি করা এ-সংক্রান্ত গেজেটটি প্রত্যাহার বা বাতিল না করা হলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। সে অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কোনো জবাব না পেয়ে ২৬ মে রিট আবেদন করা হয়।

ওইদিন সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ উদ্বৃত করে কায়সার কামাল বলেছিলেন, ‘এ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, যে কোনো বিচার হতে হবে উন্মুক্তভাবে। কারাগারের একটি কক্ষে উন্মুক্তভাবে বিচার হতে পারে না। ফলে এই প্রজ্ঞাপন সংবিধানবিরোধী।

বাংলা৭১নিউজ/এস আর

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ – ২০১৯ । জেডএস মাল্টিমিডিয়া লিমেটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান