সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
লুটে খাওয়ার টাকা ব্যাংকে নেই : সংসদে প্রধানমন্ত্রী মমতাজউদদীনের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশ মাসুদুল জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ বলা হাস্যকর আত্মসাতের দেড় কোটি টাকায় স্ত্রীর নামে বাড়ি, আদালতে সিরাজ গরম তেলে স্বামীর শরীর ঝলসে দিল স্ত্রী ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ কর্মকর্তা রিমান্ডে হানিফের বাসচাপায় প্রাণ গেল শিক্ষক-ছাত্রের আইসক্রিমে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মেয়েকে হত্যা করলেন মা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তি হজযাত্রীদের উপজেলা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট মঙ্গলবার জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ভুল করেই পাসপোর্ট রেখে যান পাইলট : আন্তঃমন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি বিহারে মস্তিষ্কের প্রদাহে ১০০ শিশুর মৃত্যু চোখ হারানো মিলনের পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা তিন মামলা শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আ.লীগ প্রার্থী হজ এজেন্সির জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি‌ জুলাই থেকে ই-পাসপোর্টের যুগে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়েছে ওসি মোয়াজ্জেমকে

‘হাজার হাজার কওমী মাদ্রাসায় কোন তদারকিই নেই’

একটি মহিলা মাদ্রাসার ক্লাসে শিক্ষার্থী।

  •  মাদ্রাসাগুলোর মধ্যেও রয়েছে বিভক্তি    
  • মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন
  • রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও একক কর্তৃত্ব চলছে ২০ হাজার কওমী মাদ্রাসায়   

বাংলা৭১নিউজ,রিপোর্ট: রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মানসিকতা থেকেই কওমী মাদ্রাসাগুলোতে কোন ধরণের শৃঙ্খলা নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের নেই কোন জীবনের নিরাপত্তা।ফেনীর সোনাগাজীতে অগ্নিদগ্ধ করে মেরে ফেলা হয়েছে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহানকে।চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানায় একটি মাদ্রাসা থেকে ১১ বছর বয়সী একজন ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় দু’জন কিশোরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সেখানে মামলা হয়েছে।হেফাজতের আন্দোলনের নামে কোমলমতি বাচ্চাদের এনে রাজপথে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সরকারের পতন।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনেও রয়েছে অভ্যন্তরীন কোন্দ্বল। মূলত এর দু’টি অংশই স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হাতে সৃষ্টি। এখন যারা নেতৃত্বে রয়েছেন-তারাও স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান। ফলে প্রগতিশীল যে কোন আন্দোলন ঠেকাতে দেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা এসব মাদরাসার কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহার করে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা এবং খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কাছেই তথ্য রয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীচক্রকে সমর্থন প্রদানকারি একটি পত্রিকার সম্পাদক সেদিন মতিঝিলে হেফাজতের আন্দোলনকে অর্থ  দিয়ে, খাবার সরবরাহ করে উস্কে দিয়েছিল।

যার উদ্দেশ্য ছিল সরকারের পতন ঘটানো। সরকারের গোয়েন্দা রিপোর্টে  এই চক্রের ব্যপারে সজাগ থাকা এবং এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থতা গ্র্রহণের কথা বলা হলেও তা নেয়া হয়নি। উল্টো এই চক্রটি সুকৌশলে সরকারের সাথে মিশে গেছে এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুৃবিধা ভোগ করছে। সুযোগের অপেক্ষায় ঘাপটি মেরে থাকা এই চক্রটি যেকোন সময় সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে।

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি কারা এসব প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপকৌশলে লিপ্ত তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।এছাড়াও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় মনিটরিং বা তদারকির ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিবিসি’তে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি হুবুহু তুলে ধরা হলো:

পাঁচদিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে যেতে হয়েছে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহানকে।ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত এই ঘটনার মাঝেই বুধবার রাতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানায় একটি মাদ্রাসা থেকে ১১ বছর বয়সী একজন ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

তার পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে যে, মাদ্রাসার একজন শিক্ষক শিশুটিকে অনেক মারধোর করেছিলেন।দু’দিন আগে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় দু’জন কিশোরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সেখানে মামলা হয়েছে।এসব ঘটনার প্রক্ষাপটে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই আবার প্রশ্ন তুলেছেন।আসলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় মনিটরিং বা তদারকির ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

রাজশাহীতে একটি মসজিদের ইমামতি করেন মো: মাসুদউল্লাহ। তিনি গত ১০ বছর ধরে কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করেছেন।তিনি বলছিলেন, সরকার নিয়ন্ত্রিত আলিয়া ও এবতেদায়ী মাদ্রাসায় তদারকির ঘাটতি আছে। আর কওমী মাদ্রাসা তদারকির কোনো ব্যবস্থা নেই।

বাংলাদেশে ২০ হাজারের বেশি কওমী মাদ্রাসা রয়েছে।।বাংলাদেশে ২০ হাজারের বেশি কওমী মাদ্রাসা রয়েছে।

নিজের অভিজ্ঞতায় তিনি এমন পরিস্থিতিই দেখেছেন।”পরিচালনায় যারা থাকেন, বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসায় একক কর্তৃত্ব। মাদ্রাসাগুলোতে ঐ ধরণের কোনো নজরদারি না থাকাতে কেউ সেখানে দায়িত্ব নিয়ে দেখভাল করে না।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে পুরোপুরি সরকারি তিনটি আলিয়া মাদ্রাসা আছে।আর নয় হাজারের মতো আলিয়া এবং এবতেদায়ী মাদ্রাসা আছে সরকারি এমপিও ভূক্ত।এর বাইরে সরকারি স্বীকৃত মাদ্রাসা আছে হাজার তিনেক।

এছাড়া কওমী মাদ্রাসার ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এই মাদ্রাসাগুলোর বোর্ড বলছে, দেশে ২০ হাজারের বেশি কওমী মাদ্রাসা রয়েছে।শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন রাশেদা কে. চৌধুরী। তিনি বলেছেন, হাজার হাজার মাদ্রাসা সরকারিভাবে তদারকিতে ব্যাপক ঘাটতি আছে। সেকারণে জবাবদিহিতা না থাকায় সব ধরণের মাদ্রাসা থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে বলে তিনি মনে করেন।

“সরকারি তত্বাবধানে পরিচালিত হয় আলিয়া এবং এবতেদায়ী মাদ্রাসা। কিন্তু সত্যি কথা বলতে গেলে, তাদের মনিটরিংয়ে আমরা নানা ধরণের দূর্বলতা দেখি।”

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শিশুদের নিরাপত্তা এখন একটি বড় প্রশ্ন।মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শিশুদের নিরাপত্তা এখন একটি বড় প্রশ্ন।

“এর বাইরে যে হাজার হাজার মাদ্রাসা আছে, কওমী মাদ্রাসাগুলো, তারা কিন্তু সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্বেও কোনো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আসতে চায় নি। আমি নিয়ন্ত্রণের কথা বলছি না। আমি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথা বলছি, যার মাধ্যমে সরকারের এক ধরণের তদারকির দায়িত্বভার থাকবে।”

দিনাজপুর জেলার একটি মাদ্রাসার একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, কওমী মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই দরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের।

এই অভিভাবকরা মাদ্রাসার কঠোর শাসনকে মেনে নেন। আর কঠোর শাসনের জন্য অভিভাবকের কাছেও কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় অনেক সময় সেই শাসন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায় বলে তিনি মনে করেন।

কওমী মাদ্রাসাগুলোর জন্য বেসরকারিভাবেও একক কোনো বোর্ড নেই। তাদের মধ্যেও বিভক্তি আছে।যদিও কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমদ শফীকে তারা সবাই মানেন।

মি: শফির নেতৃত্বাধীন বোর্ডের সহসভাপতি মুফতি মো: ফয়জুল্লাহ বলছিলেন, “কওমী মাদ্রাসা যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে কওমী মাদ্রাসার কারিকুলাম, তার অবকাঠামো-এসব বাধাগ্রস্ত হবে বলে মানুষ মনে করে।”

মাদ্রাসাসরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য তদারকিতে ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন।

তারা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাদ্রাসা বিভাগকে পৃথক করার পর জেলা উপজেলা পর্যায়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত আলিয়া মাদ্রাসাগুলোকেই তদারকির কোনো কাঠামো প্র্রতিষ্ঠা করা এখনও সম্ভব হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মো: আলমগীর বলছিলেন, “আলিয়া মাদ্রাসা যেটা সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, তারা সরকারের কারিকুলাম এবং নিয়ম কানুন দ্বারা পরিচালিত হয়।” “কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে, তার জন্য নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি হয়। তবে যতটা মাদ্রাসা আছে, আমাদের তত জনবল না থাকায় নিয়মিত পরিদর্শনে কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে।”

“আর কওমী মাদ্রাসা, এটাতো সরকারের নিয়ন্ত্রণে না। তারা সরকারের সিলেবাসও অনুসরণ করে না। তারা সরকারের কাছে অর্থও নেয় না। তারা স্বাধীনভাবে চলে।” সরকারি কর্মকর্তারা সরকার নিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসার তদারকির দূর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করার কথা বলছেন।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, কওমী মাদ্রাসার ক্ষেত্রে রাজনীতি এবং ভোটের রাজনীতি রয়েছে। সেজন্য কওমী মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় না।

বাংলা৭১নিউজ/সূত্র:বিবিসি/এবি

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ – ২০১৯ । জেডএস মাল্টিমিডিয়া লিমেটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান