সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ মঙ্গলবার বগুড়ার উপনির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি বিএনপির লুটে খাওয়ার টাকা ব্যাংকে নেই : সংসদে প্রধানমন্ত্রী মমতাজউদদীনের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশ মাসুদুল জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ বলা হাস্যকর আত্মসাতের দেড় কোটি টাকায় স্ত্রীর নামে বাড়ি, আদালতে সিরাজ গরম তেলে স্বামীর শরীর ঝলসে দিল স্ত্রী ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ কর্মকর্তা রিমান্ডে হানিফের বাসচাপায় প্রাণ গেল শিক্ষক-ছাত্রের আইসক্রিমে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মেয়েকে হত্যা করলেন মা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তি হজযাত্রীদের উপজেলা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট মঙ্গলবার জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ভুল করেই পাসপোর্ট রেখে যান পাইলট : আন্তঃমন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি বিহারে মস্তিষ্কের প্রদাহে ১০০ শিশুর মৃত্যু চোখ হারানো মিলনের পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা তিন মামলা শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আ.লীগ প্রার্থী হজ এজেন্সির জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি‌
জামায়াতে বাড়ছে হতাশা-কোন্দ্বল, মোস্তাফা জব্বারের মতে ওরা অন্তরে পাকিস্তান

জামায়াতে বাড়ছে হতাশা-কোন্দ্বল, মোস্তাফা জব্বারের মতে ওরা অন্তরে পাকিস্তান

বাংলা৭১নিউজ, মোহাম্মদ রাজু: বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি এখন কোন পথে এগুচ্ছে-এমন প্রশ্ন এখন সব মহলেই। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং দলের প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে দলটির কট্রোর ও উদারপন্থী নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য এখন তুঙ্গে। দলটির তৃণমূলেও দেখা দিয়েছে হতাশা ও কোন্দ্বল। সম্প্রতি সেক্রেটারি জেনারেলসহ এই দলটি থেকে একাধিক নেতা পদত্যাগও করেছেন এবং আরও অনেকেই বের হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বর্তমান সরকারের জামায়াত বিরোধী কঠোর অবস্থান, দলটির প্রতি আদালতের নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব এবং দলটির  দীর্ঘ আন্দোলনে মিত্র হিসাবে পরিচিত বিএনপিরও মুখ ঘুরিয়ে নেওয়াটা জামায়াতকে একেবারে কোনঠাসা করে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি জামায়াত কিভাবে সামলে উঠবে-তা নিয়ে দলটির অভ্যন্তরেই নানা মত রয়েছে। এজন্য জামায়াতের বড় একটি অংশ মনে করেন, অতিতের ভুলের জন্য তারা ক্ষমা চাইবে এবং নতুন নামে দল গঠন করবে। তবে স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পর এসে জা্মায়াতের ক্ষমা চাওয়াটাকে এক ধরণের অপকৌশল বলেই মনে করেন সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক নেতা জানান, বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে তারা দলের নাম পরিবর্তন করার পক্ষে। একইসাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াটা যে তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তা স্বীকার করে জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার পক্ষেই এই দলটির অধিকাংশ নেতা। কিন্ত জামায়াতের কট্রোরপন্থী হিসাবে পরিচিত নেতারা এই সিদ্ধান্তের পুরো বিপক্ষে। এরপরও জামায়াতের সংস্কারপন্থী অধিকাংশ নেতাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে পথ চলতে আগ্রহী।

এই লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়াসহ দলের সংস্কার ও সাংগঠনিক গতি আনতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সফর কর্মসূচি শুরু করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ না করলেও ঘরোয়াভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

দলের অভ্যন্তরে সংস্কার ও জামায়াতের নাম পরিবর্তন করতে ইতোমধ্যেই  শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে। কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক ‘দৃষ্টি আকর্ষণী’ নোটিশে দায়িত্বশীলদের জানানো হয়।

অপরদিকে জামায়াতের এমন অবস্থানকে অপকৌশল বলেই মনে করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বাংলা৭১নিউজকে বলেন, জামায়াত যদি শোধরাতো তাহলে সাতচল্লিশ বছর লাগতো না। তিনি বলেন, আমি জামায়াতকে নিয়ে অনেকের আলোচনাই শুনেছি। কিন্ত আমি মনে করি, জামায়াত শোধরানোর মত প্রতিষ্ঠাণ না। তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনায় ভুগেনি। বাস্তবতা হচ্ছে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরই তাদের বদলানো উচিত ছিল। এরা যখন ষোলই ডিসেম্বর বদলাতে পারে নাই, সাতচল্লিশ বছরেও বাংলাদেশকে মানতে পারে নাই, সেহেতু সংগঠণগতভাবে জামায়াত কখনোই বাংলাদেশকে স্বীকার করবে না।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, দুই-একটা আবদুর রাজ্জাক হয়তো অনুশোচনায় ভুগতে পারে অথবা নাটক করতে পারে; দুটার যেকোনটাই হোক না কেন, আমি মনে করি-একাত্তরের পরাজিত শক্তি কিম্বা তাদের সহযোগি যারা  তারা এখনো বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি। তারা যে বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। যেমন-তারা এখনো জাতীয় পতাকাকে সন্মান দিতে পারে না, জাতির পিতাকে সন্মান দিতে পারে না, এদেশের জাতীয় সঙ্গীতকে মানে না এবং তারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে এই রাষ্ট্রকে বিপন্ন করে পাকিস্তান কায়েম করতে চায়। এখনো তারা পাকিস্তানের দালালী করছে এবং পাকিস্তানের দালাল হিসাবেই চিহ্নিত।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা যে ভূমিকা পালন করেছে; ভিন্নভাবে তারা একই ভূমিকা এখোনও পালন করছে। আমি বিশ্বাস করি, তাদের এই ভূমিকা পরিবর্তনযোগ্য নয়। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশটাকে স্বাধীন করেছি কিম্বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করি, আমাদেরকেতো আর পাকিস্তান বানানো যাবে না। কিন্ত ওরা পাকিস্তানের ফসল। ওরা অন্তরে পাকিস্তান লালন করে, ওদের নাগরিকত্ব পাকিস্তানী।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে এবং দলের প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন প্রভাবশালী নেতা আবদুর রাজ্জাক, তিনি দলের জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি পদে ছিলেন। এ বিষয়ে প্রকাশ্য অবস্থান নিলে দল থেকে বহিষ্কৃত হন আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা মুজিবুর রহমান (মঞ্জু)। এ পরিস্থিতিতে চাপে পড়ে জামায়াত নতুন সংগঠন গড়ার ঘোষণা দেয়।

আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগের পরদিনই জামায়াত এক ‘দৃষ্টি আকর্ষণী’ নোটিশ পাঠিয়ে মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের জানায়, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। শুরা সদস্যদের মতামত পর্যালোচনা করে নির্বাহী পরিষদ সুনির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে একটি নতুন সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য সেক্রেটারি জেনারেলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, দেশান্তর ও ধর্মান্তরসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মোট ৬ জন যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে তারা হচ্ছেন- জামায়াতে ইসলামীর দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী  কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করেছে সরকার। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ চূড়ান্ত রায় রিভিউতে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন।

শুনানি চলার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপীলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কমপক্ষে আরো ১৮টির বেশি মামলার বিচার কাজ চলছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার এবং পাকিস্তান বিভক্তির বিরোধিতা করেছিল জামায়াতে ইসলামী। দলটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী, বুদ্ধিজীবী এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যায় সহযোগিতা করেছিল। দলটির অনেক নেতাকর্মী সেসময় গঠিত আধা-সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেছিল, যারা গণহত্যা, বিশেষ করে হিন্দুদের ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে স্থানান্তরের মত যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা আধাসামরিক বাহিনী শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর নতুন সরকার জামায়াতকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং দলের নেতারা পাকিস্তানে নির্বাসনে চলে যান। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে  হত্যা এবং কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থানের পর ১৯৭৭ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে জামায়াতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। দলটির নেতাকর্মীরা ফিরে আসার অনুমতি পান এবং ১৯৭৯ সালের মে মাসে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০১৩ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন সম্পর্কিত একটি রুলের রায়ে এই সংগঠনের নিবন্ধন অবৈধ এবং দলটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহনের অযোগ্য ঘোষণা করে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ – ২০১৯ । জেডএস মাল্টিমিডিয়া লিমেটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান