বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যমে পেন্সিলে আঁকা খালেদা জিয়ার কারাজীবন ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে শপথ নেয়, তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের নয়’ আনিস খাদেম হত্যায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড শ্রীলঙ্কায় ড্রোন নিষিদ্ধ সুপ্রভাতের মালিক, কন্ডাকটর হেলপারের বিরুদ্ধে চার্জশিট শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশেও জঙ্গি হামলার চেষ্টা চলছে ছেঁড়া তার জুড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমার অগ্রিম টিকেট কিনতে মানুষের ঢল ড. কামালের ব্যাংক হিসাব তলব কলেরা হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ বেশি রোগী হয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা থাকবে, না হয় আমি থাকব মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর দিক জানতে চেয়েছেন আদালত চীনের ‘টপ সিক্রেট’ মিসাইলের তথ্য ফাঁস জুমার খুতবায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রচার করবেন:প্রধানমন্ত্রী সাত কলেজের আন্দোলন: সোমবার পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শ্রীলংকায় ফের বিস্ফোরণ পোলার্ডকে ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ দল শপথ নিলেন বিএনপির জাহিদুর এমপি হিসাবে শপথ নিচ্ছেন বিএনপি নেতা জাহিদ সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তি কমাতে সারা দেশে ধর্মঘটের ছক
বাংলাদেশের পুবে তাকাও নীতি কী ভারতের জন্য অস্বস্তির!

বাংলাদেশের পুবে তাকাও নীতি কী ভারতের জন্য অস্বস্তির!

সাখাওয়াত হোসেন বাদশা: তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুবের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের  পরিবেশ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ‘পুবে তাকাও নীতি’-কে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তার সফর পরিকল্পনাও সাজিয়েছেন।  তবে তিনি চীন নাকি ভারত সফরের মধ্যে দিয়ে তার পুবমুখি কূটনীতির যাত্রা শুরু করবেন তা  এখন চূড়ান্ত হয়নি। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পুবে তাকাও নীতিকে ভারত খুব একটা ভাল দৃষ্টিতে দেখছে না। বিশেষ করে পুুব ঘেষা নীতির কারণে বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্ক  জোরদার হওয়াটা ভারত তার জন্য অস্বস্তি হিসেবেই দেখবে- এমনটি মনে করেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও চীনের সাথে ভারতের সেই আগের বৈরিতা এখন  আর নেই। দু’দেশই এখন অর্থনৈতিক সহ বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা সারক স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে পারস্পরিক সম্পর্কের প্রসার ঘটিয়েছে।

এদিকে, চীন না ভারত- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরবর্তী সফর কোথায় হতে যাচ্ছে তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে  চলছে জোর গুঞ্জন। তবে এটি নিশ্চিত যে, পুবের কোনো দেশেই হবে সরকার প্রধানের আগামীর সফর। প্রধানমন্ত্রীর পুবে তাকাও নীতির আভাস ইতোমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ও পেয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এমন আভাস পাওয়া গেছে যে, তিনি চীন সফরের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।এলক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরটি আয়োজনে তৎপরতা শুরু করেছে সেগুনবাগিচা। চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ঢাকার চীনা দূতাবাসও দ্বিপক্ষীয় এই সফর বাস্তবায়নে কাজ করছে। পেশাদাররা বলছেন, টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের বিষয়টিও নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে।

তবে ভারতজুড়ে নির্বাচনের ঝড়ো হওয়া বইতে থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লী সফর পিছিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে চীন সফরটাই তালিকার শীর্ষে  চলে আসবে। ভারতের এই নির্বাচনী হাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অনেকটা সহ্ায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

একথাও ঠিক যে, দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের মনোযোগ এখন পুরোপুরিভাবে নিবদ্ধ লোকসভা নির্বাচনে। ফলে ঢাকা চাইলেও হয়তো এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের চিন্তা খুব একটি ফলপ্রসূ হবে না। বরং দিল্লির মসনদে প্রত্যাবর্তন বা পরিবর্তন যা-ই হোক নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সফর হবে বেশি কার্যকর- পেশাদারদের মধ্যে এমন মতই প্রবল।

বাংলাদেশের বিদেশ নীতি দেখভালের সঙ্গে যুক্ত একাধিক দায়িত্বশীল বিশেষজ্ঞ জানান, কেবল চীন বা ভারতই নয়, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরগুলোর তালিকায় জাপান এবং রাশিয়াকেও রাখা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পরপরই (জানুয়ারিতে) জাপানের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ঢাকা সফর করেন। ক্ষমতার এই মেয়াদে এটিই ছিল কোনো বিদেশি অতিথির প্রথম সফর।

টোকিও’তে বিশ্ববাস্তবতায় এশিয়ার দেশগুলোর ভবিষ্যৎ বিষয়ক একটি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে জাপান সরকার। মে মাসের ওই সম্মেলন নিকি সম্মেলন নামে খ্যাত। এবারে এর ২৫তম আসর হবে। ওই আয়োজনকে সামনে রেখে জাপানে প্রধানমন্ত্রীর ‘দ্বিপক্ষীয়’ একটি সফরের চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ চীন সফর করেন। আর ’১৬ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। সেই বিবেচনায় এবারে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর হলে, তা হবে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফরের ফিরতি সফর।

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ি, ভারত পুবের নীতি গ্রহণের মধ্যে দিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বৈদেশিক সম্পর্ক বিস্তারের একটি কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য ভারতকে একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কৌশলগত প্রভাব খর্ব করা।

১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর থেকেই ভারত ও চীন পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দুই সামরিক প্রতিযোগী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। চীন ভারতের প্রতিবেশি ও প্রতিদ্বন্দ্ব্বী রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলে এবং নেপাল ও বাংলাদেশের উপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা অবতীর্ণ হয়।

১৯৭৯ সালে দেং জিয়াওপিঙের ক্ষমতারোহণের পর চীন তার ভীতিপ্রদ রাষ্ট্রবিস্তার নীতি অনেকাংশে সংযত করে। তার পরিবর্তে এই দেশ এশীয় দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কৌশল গ্রহণ করে। ১৯৮৮ সালে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন নৃশংসভাবে দমন করে অধুনা মিয়ানমারের সামরিক জান্তা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে। এই সময় অনেক আন্তর্জাতিক সংঘ মিয়ানমারকে সংঘচ্যুত ঘোষণা করলেও চীন মিয়ানমার সামরিক সরকারের ঘনিষ্ঠতম সহযোগী ও সমর্থকে পরিণত হয়।

প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিমা রাও (১৯৯১–১৯৯৬) ও অটলবিহারী বাজপেয়ীর (১৯৯৮–২০০৪) শাসনকালে ভারতের “পুবে তাকাও” নীতি গৃহীত ও কার্যকর হয়েছিল। ঠান্ডা যুদ্ধ-কালীন নীতি ও কার্যকলাপ থেকে সরে এসে এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণের পথে অগ্রসর হয়ে ভারত তার কৌশলগত বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে ঘনিষ্ঠ আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও আদর্শগত যোগসূত্র স্থাপনের উপর।

ভারত ব্যবসা, বিনিয়োগ ও শিল্পোদ্যোগের জন্য আঞ্চলিক বাজার সৃষ্টি ও প্রসারের পক্ষে মতপ্রকাশ করে এবং চীনের অর্থনৈতিক ও রণকৌশলগত প্রভাব বিষয়ে উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রগুলির দিকেও কৌশলগত ও সামরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভারত মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সাথে সম্পর্ক  গড়ে তোলে। ১৯৯৩ সালে ভারত তার নীতিতে এই পরিবর্তন আনে। এই সময় বিভিন্ন বাণিজ্যচুক্তি সাক্ষর করে ভারত মিয়ানমারে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। যদিও ভারতের বেসরকারি সংস্থাগুলি মায়ানমারের ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহ দেখায়নি। তবে দেশের সংস্থাগুলি মিয়ানমারের বিভিন্ন আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক প্রকল্প নিয়ে অবতীর্ণ হয়। দেশের প্রধান প্রধান রাজপথ ও পাইপলাইনগুলির নির্মাণকাজ এবং বন্দরগুলির সংস্কার শুরু হয়।

মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ভাণ্ডারগুলির উপরে নিয়ন্ত্রণ লাভের জন্যও ভারত চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য মিয়ানমারের খনিজ সম্পদের উপর চীনের একচেটিয়া অধিকার খর্ব করা, তৈলসমৃদ্ধ মধ্য প্রাচ্যের উপর ভারতের নির্ভরতা হ্রাস করা এবং দেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদার জোগান দেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে একটি প্রধান ও স্থায়ী শক্তিসম্পদ উৎসে পরিণত করা।

চীন মায়ানমারের বৃহত্তম সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী হলেও ভারত মায়ানমারের সামরিক কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেয় এবং জঙ্গি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন প্রতিহতকরণ এবং উত্তরপূর্ব ভারতের অন্যতম সমস্যা ড্রাগ চোরাচালান বন্ধ করার ব্যাপারে মায়ানমারের সাহায্য প্রার্থনা করে। কিন্তু চীন রাখাইন রাজ্যের এ-১ শিউ ক্ষেত্রে ২.৮৮ – ৩.৫৬ ট্রিলিয়ন কিউবিটেরও বেশি পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করলে এবং উপকূলীয় মায়ানমার ও কোকো দ্বীপপুঞ্জে চীনের নৌবাহিনী ও সামরিক পর্যবেক্ষণাগার স্থাপিত হলে ভারত উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। ভারত মায়ানমারে বন্দর উন্নয়ন, শক্তিসম্পদ, পরিবহন ও সামরিক ক্ষেত্রে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে।

ভারত ফিলিপিনস, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামরিক সুসম্পর্ক স্থাপন করে। ভারত শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর করে এবং উভয় রাষ্ট্রকে সামরিক সহযোগিতাও দান করে। পূর্ব এশিয়ার একাধিক রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সাক্ষরিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিঙ্গাপুরের সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে আর্লি হারভেস্ট স্কিম।

ভারত ও চীন রণকৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্ব্বী হলেও ভারতের পুবে তাকাও নীতিতে চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কথাও বলা হয়েছে। ১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্বস্ততা গঠনের লক্ষ্যে ভারত চীনের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চালাচ্ছে। ১৯৬২ সালে যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ২০০৬ সালে ভারত ও চীন সীমান্ত বাণিজ্যের স্বার্থে নাথুলা গিরিপথ খুলে দেয়।২০০৬ সালের ২১ নভেম্বর, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও চীনা রাষ্ট্রপতিহু জিনতাও দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষগুলি বন্ধের উদ্দেশ্যে একটি ১০-দফা যৌথ ঘোষণাপত্র জারি করেন।

 চীন ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য প্রতি বছর ৫০ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ভারত ও চীনের সরকার ও শিল্পপতিরা ২০১০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছেন ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা এবং সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারত-চীন সীমান্ত বিতর্ক দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায় রূপে দেখা দিয়েছে।নির্বাসিত তিব্বতি ধর্মনেতা দলাই লামার প্রতি ভারতের সমর্থনও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের একটি অন্যতম কারণ।

ভারত এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক ও ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক স্থাপনের ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিষয়ক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনে যোগদান করেছে।এছাড়া মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্য ও চীনের ইউনান প্রদেশের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমসাময়িক স্টিলওয়েল রোডও আবার খুলে দেওয়ার জন্য কথাবার্তা শুরু হয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের ৪৫ শতাংশই সাধিত হয় দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে। ভারতের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও, এই সকল অঞ্চলে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ভারত এখনও তুলনামূলকভাবে চীনের পশ্চাদবর্তী।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পুবের নীতিকে ভারত খুব একটা ভাল দৃষ্টিতে দেখবে না বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারনা। দিল্লী চায় বাংলাদেশের পুব ঘেষা নীতিটি ভারত নির্ভর হোক। কিন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রভাববলয় থেকে বের হয়ে ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগাতে চাচ্ছেন। এলক্ষ্যেই  তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই শেখ হাসিনা ভারতের মতই পুবের নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্কে র বিস্তৃতি ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আর এমনটি করতে পারলে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যের যেমন প্রসার ঘটবে; তেমনি এদেশের সড়ক ও রেলপথ যুক্ত হবে ভারত, চীন, মিয়ানমার, লাউস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সাথে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

 

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ – ২০১৯ । জেডএস মাল্টিমিডিয়া লিমেটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান