সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
মমতাজউদদীনের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশ মাসুদুল জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ বলা হাস্যকর আত্মসাতের দেড় কোটি টাকায় স্ত্রীর নামে বাড়ি, আদালতে সিরাজ গরম তেলে স্বামীর শরীর ঝলসে দিল স্ত্রী ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ কর্মকর্তা রিমান্ডে হানিফের বাসচাপায় প্রাণ গেল শিক্ষক-ছাত্রের আইসক্রিমে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মেয়েকে হত্যা করলেন মা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তি হজযাত্রীদের উপজেলা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট মঙ্গলবার জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ভুল করেই পাসপোর্ট রেখে যান পাইলট : আন্তঃমন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি বিহারে মস্তিষ্কের প্রদাহে ১০০ শিশুর মৃত্যু চোখ হারানো মিলনের পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা তিন মামলা শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আ.লীগ প্রার্থী হজ এজেন্সির জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি‌ জুলাই থেকে ই-পাসপোর্টের যুগে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়েছে ওসি মোয়াজ্জেমকে বাড়ির দরজা খোলা পেয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ
এবার ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার ভোট, বেকায়দায় থেরেসা ?

এবার ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার ভোট, বেকায়দায় থেরেসা ?

বাংলা৭১নিউজ,ঢাকা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া বাতিল করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। এবার কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবটিও নাকচ করেছে পার্লামেন্ট। 

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ফের ভোটাভুটিতে যাচ্ছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট, যেখানে এমপিরা ঠিক করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আরও সময় চাওয়া হবে কি না।

২০১৬ সালের ২৩ জুন যুক্তরাজ্যে এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির চার দশকের সম্পর্কচ্ছেদের রায় হয়। ভোটে হারার পর রক্ষণশীল দলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করলে থেরেসা মে সেই দায়িত্ব নিয়ে বিচ্ছেদের পথরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই জোট থেকে কোন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য আলাদা হবে এবং এরপর ইইউভুক্ত বাকি ২৭টি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে, সেই পথ বের করার জন্য সময় নেওয়া হয় ২১ মাস।

২৯ মার্চ ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা। একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তির মাধ্যমে ব্রেক্সিট সম্পাদন করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।

তবে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থীদের ভোট পেতে হলে থেরেসা মেকে আইরিশ সীমান্তে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার প্রশ্নে ইইউর কাছ থেকে কিছু আইনসিদ্ধ ছাড় আদায় করতে হবে।

সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ্রি কক্সকে গত মঙ্গলবার ব্রাসেলসে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দুপক্ষের আলোচনায় এখনও কোনো অগ্রগতি ঘটেনি বলে বুধবার জানিয়েছে ইইউ। ইইউর প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে তার মুখপাত্রের মাধ্যমে বলেছেন, গঠনমূলক পরিবেশ সত্ত্বেও আলোচনা অত্যন্ত কঠিন ছিল।

এখন পর্যন্ত বিচ্ছেদ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সমাধান সূত্র পাওয়া যায়নি। চলতি সপ্তাহান্ত পর্যন্ত আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছেন ইইউর এক কর্মকর্তা। লন্ডনে থেরেসা মের এক মুখপাত্রও একই সুরে বলেন, কঠিন আলোচনা সত্ত্বেও সরকার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দাবি আদায় করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, ইইউ মূল ব্রেক্সিট চুক্তিতে কোনোরকম রদবদলের সম্ভাবনা শুরু থেকেই উড়িয়ে দিয়েছে। তবে বাড়তি এক নথির মাধ্যমে ব্যাকস্টপ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আশ্বাস দিতে প্রস্তুত ব্রাসেলস।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সংসদের উচ্চকক্ষ এক সর্বদলীয় প্রস্তাব পাস করে সরকারকে নতুন করে বিপাকে ফেলেছে। হাউস অব লর্ডস ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কব্যবস্থায় যোগ দিতে সরকারকে আলোচনার উদ্যোগ নিতে বলেছে।

অথচ থেরেসা মে এমন পদক্ষেপের ঘোরবিরোধী। একমাত্র লেবার দল ও ক্ষমতাসীন টোরি দলের কিছু সদস্য এমন প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। ফলে থেরেসা মের দুশ্চিন্তার তালিকায় নতুন একটি বিষয় যোগ হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে নানা রকম সম্ভাব্য চিত্র উঠে আসছে। দুপক্ষ যদি সপ্তাহান্তে ব্যাকস্টপ-সংক্রান্ত কোনো বোঝাপড়া করতে সক্ষম হয়, সে ক্ষেত্রে থেরেসা মে আগামী সোমবার ব্রাসেলসে গিয়ে তা অনুমোদন করতে পারেন। তারপর বুধবার তিনি সংসদে সেই খসড়া পেশ করতে পারেন।

আগামী ২১ ও ২২ মার্চ ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে থেরেসা মে ও বাকি নেতারা ব্রেক্সিটের তারিখ পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যুক্তরাজ্যের সংসদ ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করলে সেটি কার্যকর করতে কয়েক মাস বাড়তি সময় দিতে প্রস্তুত ইইউ।

তবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া মেয়াদ বাড়ানোর প্রশ্নে ইইউ সদস্য দেশগুলো যুক্তরাজ্যের প্রতি মোটেই সহানুভূতিশীল নয়। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে।

অন্যদিকে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থীরাও উভয় সংকটে পড়েছেন। তারা আবার ব্রেক্সিট চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দিলে এবং সে ক্ষেত্রে ব্রেক্সিটের কার্যকরের সময় কয়েক মাস বা দুই বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হলে গোটা প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

বিশেষ করে দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ভোটাররা ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে রায় দিতে পারেন। এমন ‘অঘটন’ এড়াতে তারা শেষ পর্যন্ত ব্রাসেলসের আশ্বাসের ভিত্তিতে ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে ভোট দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংলাপ ও ইতিবাচক প্রত্যাশা সত্ত্বেও চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী লায়াম ফক্স গত বুধবার জানিয়েছেন, শুল্ক কাঠামোর এক খসড়া সম্পর্কে সরকারের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে।

সংসদ সদস্যরা ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটির আগেই সে বিষয়ে আরও জানতে চেয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সরকার শুল্কের হার একতরফাভাবে কমালে ভোক্তাদের কিছুটা সুবিধা হলেও ব্রিটিশ ব্যবসা-বাণিজ্য জগতের ক্ষতি হবে।

বাংলা৭১নিউজ/সূত্র: রয়টার্স

 

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ – ২০১৯ । জেডএস মাল্টিমিডিয়া লিমেটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান