শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নকল দিতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ধরা ঈদে বিশেষ নজরদারিতে থাকবে ফেসবুক মোদি ক্ষমতায় আসায় তিস্তাসহ অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের আশা আ.লীগের ২৫ জেলায় চলছে প্রাথমিকের প্রথম ধাপের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঈদযাত্রায় রেলের টিকিট কিনতে কমলাপুরে ভিড় দেশে ফিরেছেন ফখরুল, বিমানবন্দরে ছিলেন না কোনো নেতাকর্মী প্রত্যাশা থাকলেও বিজেপির বিজয়ে উচ্ছ্বাস নেই বিএনপির নরেন্দ্র মোদিকে বিএনপির অভিনন্দন দেশকে এগিয়ে নিতে সবার দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় বলিউডের প্রার্থীদের হার-জিত মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন রেকর্ড জয়ে আবারও ক্ষমতায় মোদি সরকার গঠনের পথে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে আবারও আসছে মমতার সরকার লোকসভা নির্বাচন ২০১৯: পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র উত্থানের তাৎপর্য কী? দু’বছর পর খলনায়িকা হয়ে ফের বলিউডে ঐশ্বরিয়া রাই সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১৪: মন্ত্রী মেহেরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত, পুলিশের দাবি মাদক ব্যবসায়ী রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ অর্ধশতাধিক চিহ্নিত চাল আমদানিতে শুল্ক দ্বিগুণ হলো
সংকটের আবর্তে দক্ষিণ এশিয়াকেন্দ্রিক আঞ্চলিক জোট

সংকটের আবর্তে দক্ষিণ এশিয়াকেন্দ্রিক আঞ্চলিক জোট

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে গঠিত হয়েছিল সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন (সার্ক)। কিন্তু সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অনাস্থা ও রাজনৈতিক টানাপড়েন, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছরেও কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি সার্ক। সর্বশেষ ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানে ব্যর্থতার পর অনেকটা মৃতপ্রায় আঞ্চলিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে সার্ক।

শুধু সার্ক নয়, লক্ষ্য অর্জনে খুব একটা কার্যকর ভূমিকায় নেই ২২ বছর আগে গঠিত আরেক আঞ্চলিক জোট ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনও (বিমসটেক)’। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই ছিল এ জোটের উদ্দেশ্য। এদিকে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম-ইসি) স্থাপনের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। যদিও এ বিষয়টিতে বৈঠকে বসতেই সময় লেগেছে ১৪ বছর। ফলে এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি বিসিআইএম-ইসি।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও সম্পর্ক উন্নয়নে একের পর এক আঞ্চলিক জোট ও প্লাটফর্ম গঠন করা হলেও দেশগুলোর মধ্যে আস্থার অভাব, নিরাপত্তা ইস্যু ও রাজনৈতিক টানাপড়েনসহ বিভিন্ন কারণে কার্যকর হচ্ছে না এসব জোট। যদিও জোটগুলো টিকিয়ে রাখতে প্রতি বছর বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সদস্য দেশগুলোকে।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে সার্ক। প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছরেও এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে তেমন  কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি জোটটি। বর্তমানে রুটিন কাজ পরিচালনা ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম নেই সার্কের। যদিও প্রতি বছর সার্কের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ৭ লাখ ডলার চাঁদা দিয়ে থাকে বাংলাদেশ। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের পরিমাণ সদস্য দেশগুলোর মোট বাণিজ্যের ৫ শতাংশের নিচে। সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ছাড়া সার্কের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সফলতা নজরে আনা দুষ্কর। শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাফটা সার্কের একটি মাইলফলক উদ্যোগ ছিল। তবে তাতেও রয়েছে সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা। আর দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি চুক্তি না থাকায় এ চুক্তির সুফল পাচ্ছে না দক্ষিণ এশিয়ার ১৭৮ কোটি মানুষ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মূলত পাকিস্তান ও ভারতের দ্বন্দ্বের কারণে ৩৩ বছরেও দাঁড়াতে পারেনি সার্ক। ২০১৪ সালে ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে আঞ্চলিক এ জোটটিতে গতি আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ২০১৬ সালে পাকিস্তানে ১৯তম সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান ও ভুটান একযোগে সম্মেলন বর্জন করে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কারণ দেখায়, পাকিস্তান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। আর ভারত জঙ্গিবাদ ইস্যুতে ১৯তম সম্মেলন বর্জন করে। দেশটি প্রতিনিয়ত দাবি করে আসছে, পাকিস্তান জঙ্গি উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। ফলে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সহঅবস্থান হতে পারে না।

সার্কের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ১৯তম সম্মেলন পাকিস্তানেই হবে। ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে আঞ্চলিক সহযোগিতায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যে সম্পর্ক থাকা উচিত, তাতে ঘাটতি রয়ে গেছে। একটি রাষ্ট্রের বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অব্যাহতভাবে হস্তক্ষেপ করার প্রচেষ্টা সার্কের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের জন্য উপযোগী নয়। তাই বাংলাদেশ এ সম্মেলন বর্জন করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অব্যাহতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। এখন এ বিষয়ে পাকিস্তান যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করবে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভুটান এবং নেপাল নিয়ে ১৯৯৭ সালের ৬ জুন গঠিত হয় বিমসটেক। বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর জনসংখ্যা ১৫০ কোটিরও বেশি, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ। বিপুল জনঅধ্যুষিত এ অঞ্চল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে। এ অঞ্চলের গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বাণিজ্য সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই ছিল বিমসটেকের মূল লক্ষ্য। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশগুলোর আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ সার্কের মতোই। যদিও প্রতি বছর বিমসটেকের কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ প্রায় ৩ লাখ ডলার চাঁদা দিয়ে থাকে।

গঠনের ১৬ বছর পর শ্রীলংকার কূটনীতিক সুমিত নাকানদালাকে প্রথম মহাসচিব হিসেবে পায় বিমসটেক। বিমসটেকের আওতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল গঠন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন, সংস্কৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এগুলো নিয়ে বর্তমানে কাজও হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, বিমসটেকের বয়স ২২ বছর হলেও এর যাত্রা জোরেশোরে শুরু হয়েছে ২০১৬ সালের অক্টোবরে ভারতে অনুষ্ঠিত আউটরিচ সামিট দিয়ে। এর আগে বিমসটেক ও সার্কের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। তবে এ সংগঠনটি এখন অনেক ক্রিয়াশীল। গত বছর চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ দমনে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন ক্রিমিন্যাল ম্যাটারস সংক্রান্ত এবং বিদ্যুৎ সহযোগিতায় আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযোগ  বিষয়ে সমঝোতা সই হয়েছে। তবে সংগঠনটি মূল লক্ষ্য নিয়ে কতদূর এগোতে পারে তা এখনো দেখার বিষয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তার ইস্যুতে সহযোগিতার চেয়ে একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সম্পর্কই প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির।তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলো যদি একে অপরকে নিরাপদ বোধ না করে, তবে সহযোগিতাটা তৈরি হবে কীভাবে? দক্ষিণ এশিয়ায় দেশগুলোর উচিত ছিল নিরাপত্তা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা ও নির্ভরশীলতা বাড়ানো। এ জায়গাটিতে আমরা এখনো আসতে পারিনি। প্রতিবেশীর সঙ্গে নিরাপত্তার সম্পর্কটি সহযোগিতার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণই বেশি। ফলে প্রতিবেশী কোনো দেশই পরস্পরকে নিরাপদ বোধ করে না। এটিই নেতিবাচক উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সহযোগিতার সম্পর্ক এগোয় না।

দক্ষিণ এশিয়ার সংগঠনগুলো কার্যকর না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতিও দেখছেন সাবেক এ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আমরা সহযোগিতার কথা বলি, কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। সার্ককে যদি গত তিন দশক ধরে দেখি বা বিমসটেক বা বিবিআইএন, সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার, সে জায়গায় খানিকটা ঘাটতি রয়েছে। এ সংগঠনগুলোর কাঠামো দেখলেই বোঝা যায়, এগুলো বেশিদূর এগোতে পারবে না। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের বাইরে উঠে চিন্তা করতে হবে। সবাইকে নিয়ে পথ চলার জন্য যে ধরনের মানসিকতা প্রয়োজন, সে প্রস্তুতি রাষ্ট্রগুলোর থাকতে হবে। সেই সঙ্গে সংগঠনগুলোর কার্যকারিতা নির্ভর করে তার সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ও উপযোগিতার ওপর। এখন পর্যন্ত এ তিনটি সংগঠন মানুষের কাছে দৃশ্যমান কোনো যোগাযোগ তৈরি করতে পারেনি। প্রত্যাশার জায়গা নিয়ে আমরা সংগঠনগুলোকে দেখেছিলাম। সেই প্রত্যাশার জায়গা পূরণ করতে পারেনি।

প্রায় ২০ বছর ধরে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর বা বিসিআইএম-ইসি স্থাপনে একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে চীন। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের মাধ্যমে বিসিআইএম-ইসি প্রস্তাবটি বাংলাদেশের কাছে আসে। চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিফর্মস কমিটি (এনডিআরসি) এটি নিয়ে কাজ করছে। তবে বেশ কিছুদূর এগিয়ে বর্তমানে এ প্রস্তাবটি এক প্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে বিসিআইএম-ইসি এখনো তার পূর্ণ রূপ পায়নি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক ফোরামে অংশগ্রহণে আগ্রহী। বিসিআইএম-ইসি নিয়ে দেশগুলো কাজ করছে। তবে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভারত এটিকে চীনের ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। আর চীনের এ প্রকল্পটির একটি অংশ বিতর্কিত কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে গেছে। ফলে এটিকে এক প্রকার সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবে দেখছে ভারত। এ কারণে এটি বর্তমানে আটকে গেছে।

ভারতের থিংক ট্যাংক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন প্রকাশিত এর গবেষণা প্রতিবেদন ‘ইমার্জিং ট্রান্স-রিজিওনাল করিডোরস: সাউথ অ্যান্ড সাউথ ইস্ট এশিয়া’র ‘দ্য বিসিআইএম ইকোনমিক করিডোর: প্রসপেক্ট অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক অধ্যায়ে বলা হয়, বিসিআইএম-ইসিতে বেশকিছু স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলোকে সামনে রেখেই তারপর এর বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। বাণিজ্য, ট্রানজিট সুবিধা, অবকাঠামোগত সুবিধাগুলো প্রতিটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ অর্থনৈতিক করিডোরের পরিচালনসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা করা জরুরি।

আঞ্চলিক জোটগুলোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মোহসীন বলেন, সংগঠনগুলো থাকার প্রয়োজন আছে। অন্তত একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হলেও এগুলোর দরকার। এ সংগঠনগুলো শুধু সংগঠনের পর্যায়ে থাকলে হবে না। এখানে দেখতে হবে, সংগঠনগুলো এখানকার জনগণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে কিনা।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে কতটুকু যোগাযোগ রয়েছে তা-ও দেখতে হবে। যদিও এ সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে আমরা তা খুঁজে পাচ্ছি না। শুধু ভিসার বিষয়টি সামনে আনলে দেখতে পাওয়া যায়, আমাদের এখানে সংকট কোন মাত্রায় আছে। অথচ এসব সংকট দূরীকরণে সব সংগঠনই সম্ভাবনাময় ছিল এবং আছে। তবে সেই সম্ভাবনাগুলো অব্যবহূত থেকে যাচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/সূত্র:বণিক বার্তা/এসকে

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ – ২০১৯ । জেডএস মাল্টিমিডিয়া লিমেটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান