সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
মমতাজউদদীনের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশ মাসুদুল জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ বলা হাস্যকর আত্মসাতের দেড় কোটি টাকায় স্ত্রীর নামে বাড়ি, আদালতে সিরাজ গরম তেলে স্বামীর শরীর ঝলসে দিল স্ত্রী ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ কর্মকর্তা রিমান্ডে হানিফের বাসচাপায় প্রাণ গেল শিক্ষক-ছাত্রের আইসক্রিমে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মেয়েকে হত্যা করলেন মা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তি হজযাত্রীদের উপজেলা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট মঙ্গলবার জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ভুল করেই পাসপোর্ট রেখে যান পাইলট : আন্তঃমন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি বিহারে মস্তিষ্কের প্রদাহে ১০০ শিশুর মৃত্যু চোখ হারানো মিলনের পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা তিন মামলা শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আ.লীগ প্রার্থী হজ এজেন্সির জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি‌ জুলাই থেকে ই-পাসপোর্টের যুগে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়েছে ওসি মোয়াজ্জেমকে বাড়ির দরজা খোলা পেয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ
এমপি’র লোকজনের হাতে সরকারি কর্মকর্তা লাঞ্চিত

এমপি’র লোকজনের হাতে সরকারি কর্মকর্তা লাঞ্চিত

♦পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ক্ষুদ্ধ, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

বাংলা৭১নিউজ,ঢাকা: সরকারি ভূমি অবৈধ দখলে বাধা দেওয়ায় এমপি মহিবুর রহমান মুহিবের ক্যাডার বাহিনীর হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। আর হুমকির মুখে আছেন পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পরও এমন কর্মকান্ড কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি সরকারি কর্মকতাদেও লাঞ্চিত করার ঘটনা তদন্ত কওে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, এমপি হওয়ার ১ মাসের মাথায় পাউবোর ৫০ শতাংশ ভূমি অবৈধভাবে দখল করে নেওয়াটাকে ভালভাবে দেখছেন না স্থানীয় এলাকাবাসীও। পাউবো জানায়, তাদের এই ভূমির মূল্য স্থানীয় বাজার দরে ২৫ কোটি টাকার উপরে। এমপির ক্যাডার বাহিনী পাউবোর কাছ থেকে লিজ নেওয়া জমিতে গড়ে ওঠা একাধিক দোকান ঘর ভেঙ্গে ফেলে তারা সেখানে অবৈধভাবে বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণ করছে। বিষয়টি পাউবো কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়কে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এব্যপারে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, এমপির এমন কর্মকান্ড আমাদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছি। দায়ি ব্যক্তিদেও ব্যপাওে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে দু’দিন আগেই এমপি মুহিবুর রহমান মুহিবের সাথে কথা বলেছি। তাকে বলেছি, সরকারের সম্পদ অবৈধভাবে দখল করা যাবে না। এমপি সাহেব আমাকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আর এগুবেন না। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক এবং এমপি সাহেব মিলে পাউবো যে পরিমান জমি পাবে, তা মেপে পাউবোকে বুঝিয়ে দেবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমপি সাহেব (মুহিব) আমাকে এমনটিও আমকে জানান যে, তিনি মোটেও গরীর নন। কাজেই সরকারি জমি দখল করার কোন ইচ্ছা তার নেই। এখন দেখছি তার কথা আর কাজের মধ্যে অনেক ব্যবধান। মুখে এক কথা বললেন, আর কাজ করলেন আরেক রকম। সরকারি কর্মকর্তাকে তার লোকজন মারধর করা, হুমকি দেওয়া এটা অন্যায়। আমি সংসদে এমপি মুহিবের সাথে আবারও কথা বলবো এবং জানতে চাইবো তার লোকজন কেন এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি যদি বলেন, এ ধরণের ঘটনা তাকে না জানিয়ে ঘটানো হয়েছে, তাহলে আমি তাকে বলবো আপনার লোকজনের ব্যপারে ব্যবস্থা নিন।

এ ব্যপারে পাউবো বরিশাল জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী জুলফিকার হাওলাদার জানান, স্থানীয় পাউবো’র আবেদনের প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক জানিয়েছে- অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গতে হলে দখলদার পক্ষকে সময় দিয়ে নোটিশ দিতে হবে। এরপরও যদি অবৈধভাবে সরকারি জমির উপর স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ করা না হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, সরকারের ভূমি রক্ষায় আমরা সব ধরণের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি। কিন্ত এমপির ক্যাডাররা কোন কিছুই মানছেন না। বরং পাউবোর লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

জানা গেছে, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় অবৈধ দখল হওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৫০ শতাংশ জমি উদ্ধারে গিয়ে পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি মহিববুর রহমান মুহিবের ক্যাডার বাহিনীর তোপের মুখে পড়েন সেখানকার ভূমি প্রশাসন। দিনে জমি পরিমাপের সময় অশ্লীল বাক্যবাণ এবং বাধা দেয়ার চেষ্টা ছাড়াও রাতে হানা দেয়া হয় মহিপুর ভূমি অফিসে। সেখানে কর্মরত ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তাকে অফিস করতে নিষেধ এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ক্যাডাররা।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপ দাস জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের মূল পয়েন্টে থাকা পাউবোর প্রায় ৪৭ শতাংশ জমি গত সপ্তাহে দখল করে নেন প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়া মহিববুর রহমান। নিজের রেকর্ডীয় সম্পত্তি দাবি করে ওই জমি দখলে নেন তিনি। দখলের এ প্রক্রিয়া চলাকালে ভাঙা হয় বেশ কয়েকটি দোকান ও প্রতিষ্ঠান। দোকান ও প্রতিষ্ঠান ভেঙে জমি দখলের সঙ্গে সঙ্গে এর চারপাশের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। এমপি মুহিবের দাবি, ‘বৈধ কাগজপত্র মূলে তার মালিকানায় থাকা ৮ শতাংশ জমির দখল নিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে সরকারি কোনো জমি দখল করা হয়নি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘১৯৬৮ সালে এ জমির মালিকানা পেয়েছে পাউবো। এমপি সাহেব কি করে মালিক হলেন তা পরিষ্কার নয়। সর্বশেষ মাঠ জরিপে ৮ শতাংশ জমি এমপি সাহেবের নামে রেকর্ড হলে পাউবোর পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জমির দখলে যাওয়ার চেষ্টা করলে আদালতে আবারও অভিযোগ দেয়া হয়। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগের বিষয়ে আদালতের রায় দেয়ার কথা। তার আগেই বিদ্যমান সব স্থাপনা ভেঙে জমি দখলে নেন তিনি। এক্ষেত্রে দখলে নেয়া হয় ৪৭ শতাংশ জমি। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, সরকারি ভূমি উদ্ধারে কেন আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি-এজন্য আমাকে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।

এমপি মুহিবের কবল থেকে সরকারি ভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শনিবার কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপ দাস এবং মহিপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (তহসিলদার) রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় ভূমি অফিসের একটি দল কুয়াকাটা যান। তারা বেদখল হওয়া জমিতে নির্মিত সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে ভূমি পরিমাপ করেন। দেয়াল ভাঙার উদ্যোগ নেয়া হলেও এমপি মুহিবের পক্ষে ক্যাডারদের বাধার মুখে ফিরে আসেন তারা।

এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন তারা। দিনের এ ঘটনার পর রাত ৯টা নাগাদ এমপির প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত শাকিল আহম্মেদের নেতৃত্বে অর্ধশত ক্যাডার গিয়ে হানা দেয় মহিপুর ভূমি অফিসে। সেখানে তখন কাজ করছিলেন ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, তারা ভূমি অফিসে ঢুকে এমপি সাহেবের জমিতে যাওয়ার অপরাধে গালাগাল ও ভূমি কর্মকর্তা রফিকুলকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় তারা। মহিপুর বা কলাপাড়ায় তাকে আর দেখা গেলে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার রাতে অর্ধশতাধিক লোক আমার অফিসে ঢুকে কেন ওই জমিতে গিয়েছি তা জানতে চায়।পরে আমি বা আমার দফতরের কোনো লোকজন ওই জমিতে গেলে পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে বলে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা আমাকে অফিসে না আসা এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।’ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

বাংলা৭১নিউজ/এসবি

 

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫ – ২০১৯ । জেডএস মাল্টিমিডিয়া লিমেটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান