নিজের পরিচয় গোপন করে ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে শিক্ষাবৃত্তির নামে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া মামলায় আসামি ছিল এমন পাঁচজনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৮ মে) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের কমিশন থেকে চার্জশিটটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগির সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট জমা দেবেন। দুদক উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিরা হলেন- বরখাস্ত হওয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার কামরুজ্জামান ও সহকারী অফিসার সৈয়দ হাসান ইমাম। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯/ ১৬১/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত অন্যান্য চার আসামি বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা হলেন- মো. শাহ আলম, মাসুদ শামীম আহম্মেদ, এএসএম কবির ও রেজাউর রহমান। এছাড়া তাজুল ইসলাম (মৃত) বিসিকের ডেসপাস রাডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সিস্ট্যান্ট অফিসার কামরুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম পরিচয়ে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন। পরে রফিকুল ইসলাম নাম ব্যবহার করে প্রতিবছর সরকারি বিভিন্ন অফিসের নাম ও পদবি ব্যবহার করে বাংলাদেশ কর্মচারি কল্যাণ বোর্ড থেকে কল্পিত অধ্যয়নত সন্তানের নাম দিয়ে শিক্ষাবৃত্তির জন্য একাধিক আবেদন করেন।
তার এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড হতে বাংলাদেশ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের মোট ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ২৫০ টাকার চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। অনুরূপভাবে আরেক আসামি সৈয়দ হাসান ইমাম নিজেকে আব্দুল মালেক পরিচয়ে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩৩ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
আসামি তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অনুরূপভাবে ১৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলেও তিনি মৃত্যুবরণ করায় অনুমোদিত চার্জশিট হতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ