সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কোপা দেল রের সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদ ম্যাচের স্কোরলাইন ০-১, ১-১, ১-৩ থেকে ৩-৩, ৩-৪ এবং সর্বশেষ ৪-৪। শ্বাসরুদ্ধকর ও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১২০ মিনিটে যাওয়া সেই রাতে কেউ কাউকে হারাতে পারেনি। তবে শেষ পর্যন্ত কোপা দেল রের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে রিয়াল।
রিয়াল তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছিল সোসিয়েদাদের মাঠে প্রথম লেগে ১-০ গোলে জয়ের পরই। মঙ্গলবার রাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ অ্যাগ্রিগেটে তারা ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ঘরের মাঠে সোসিয়েদাদকে আতিথ্য দিতে নামে কার্লো আনচেলত্তির দল। ফাইনালে উঠতে হলে ড্র করলেই যথেষ্ট ছিল স্বাগতিক রিয়ালের জন্য, অন্যদিকে ২ গোলেই জিততে হতো সোসিয়েদাদকে। প্রথম লেগে রিয়ালের প্রতিপক্ষ দলটি নিজেদের মাঠে প্রায় সমানভাবে লড়লেও, দ্বিতীয় লেগে কিছুটা পিছিয়েই ছিল। তবে আক্রমণভাগে এদিন সোসিয়েদাদ ছিল আরও ক্ষুরধার।
২৬ শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে পারে লস ব্লাঙ্কোসরা। অন্যদিকে, ১১ শটের ৫টি লক্ষ্যে ছিল সোসিয়েদাদের। তাদের পক্ষে ডেভিড আলাবার আত্মঘাতী গোল ছাড়া আন্দের বাররেনেচিয়া একবার এবং মিকেল ওয়ারজাবাল দু’বার স্কোরশিটে নাম তোলেন।
টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ১৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে লক্ষ্যে প্রথম শট নিয়েই রিয়াল মাদ্রিদকে স্তব্ধ করে দেয় সফরকারীরা। পাবলো মারিনের হেড পাস ধরে ক্ষিপ্রতায় সবাইকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ধরে ওয়ান-অন-ওয়ানে আন্দ্রি লুনিনকে পরাস্ত করেন বারেনেচিয়া।
কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া বার্নাব্যুকে ৩০তম মিনিটে জাগিয়ে তোলেন এন্দ্রিক। ভিনিসিউসের দারুণ থ্রু পাস ধরে সব ডিফেন্ডারকে পেছনে রেখে ডি-বক্সে ঢুকে, দারুণ চিপ শটে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।
লা লিগায় তেমন একটা খেলার সুযোগ পান না এন্দ্রিক। তবে কোপা দেল রেতে নিয়মিতই শুরুর একাদশে থাকেন এবং কোচের আস্থার প্রতিদানও দিয়ে চলেছেন তিনি। এখানে টানা চার ম্যাচে জালের দেখা পেলেন ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। আসরে তার মোট গোল হলো পাঁচটি, হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
বিরতির পরও চাপ ধরে রেখে ৬১তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পায় রিয়াল। জুড বেলিংহ্যামের দূর থেকে নেওয়া সেই প্রচেষ্টা অবশ্য ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক।
পাঁচ মিনিট পর এন্দ্রিককে তুলে কিলিয়ান এমবাপেকে নামান রিয়াল কোচ। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে পেয়ে তাদের আক্রমণের ধার বাড়বে কী, উল্টো ছয় মিনিটের মধ্যে আত্মঘাতী হয়ে পড়ে তারা।
ডি-বক্সে বল পেয়ে দ্রুত কামাভিঙ্গাকে পাশ কাটিয়ে দুরূহ কোণ থেকে গোলমুখে বল বাড়ানোর চেষ্টা করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মারিন, ঠেকাতে বলের পথে পা দেওয়ার চেষ্টা করেন ডাভিড আলাবা, তাতেই ঘটে যায় অঘটন। তার পায়ে লেগে লুনিনকে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় জালে।
৮০তম মিনিটে আবার দুর্ভাগ্য ঘিরে ধরে আলাবাকে। মিকেল ওইয়ারসাবালের শট লক্ষ্যেই ছিল, সামনে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল দূরের পোস্ট ছুঁয়ে জালে জড়ায়। ফাইনালের সুবাসও পেতে শুরু করে তারা।
কিন্তু আরও একবার শেষ দিকে অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। চার মিনিটের মধ্যে গোল দু’টি করেন বেলিংহ্যাম ও চুয়ামেনি।
৮২তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভিনিসিউসের পাস বক্সে পেয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান কমান বেলিংহ্যাম। গত শনিবার লা লিগায় লেগানেসের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও জালের দেখা পেয়েছিলেন তিনি।
তিন মিনিট পর সমতাসূচক গোলটি করতে পারতেন ভিনিসিউস। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে গোলরক্ষককে কাটিয়ে তার গায়েই মেরে বসেন তিনি! কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন এক ডিফেন্ডার। রদ্রিগোর ওই কর্নার থেকেই হেডে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন অহেলিয়া চুয়ামেনি।
গোলটি পেয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে নাটকীয়তা তখনও যে ঢের বাকি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কাছ থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেন ওইয়ারসাবাল।
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই আবার রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণ এবং ভিনিসিউসের লক্ষ্যভ্রষ্ট শট। খানিক পর লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশা বাড়ান এমবাপে।
অবশেষে ১১৫ মিনিটে গিয়ে দুই বদলি খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যে ব্যবধান গড়ে দেয় রিয়াল। আর্দা গিলেরের কর্নারে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন রুডিগার।
শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের ফিরতি লেগ ৪-৪ গোলে ড্র হলো। ফলে প্রথম লেগের ১-০ গোলে জয়ের সুবাদে শেষ হাসি হাসল স্পেনের সফলতম দল রিয়াল।
ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ লড়বে বার্সেলোনা অথবা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। এই দুই দলের সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ৪-৪ গোলে ড্র হয়েছিল, ফিরতি লেগে আজ বুধবার রাতে মাঠে নামবে তারা।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ