রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ককটেল বোমা সদৃশ বস্তুসহ ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন হালিম রাজ ও আব্দুল হালিম।
রোববার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের একটি রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ি পার্কিং এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি পারভেজ ইসলাম জানান, হালিম রাজ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নিয়ে গল্প কবিতা লেখেন। সেগুলো প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছিলেন। বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করেও দিতে পারেনি। অবশেষে কিশোর নামে এক ব্যক্তিকে ৩৫ হাজার টাকা দেন। তিনিও গল্প কবিতা প্রধানমন্ত্রীকে দিতে পারেনি। এজন্য তারা দুজনে বুদ্ধি করে নজরে আসতে, তাই বারুদ দিয়ে তারা বিস্ফোরণ ঘটায়।
ওসি বলেন, এগুলো ককটেল নয়, ভেতরে কোনো স্প্রিন্টার ছিল না। কিছু বারুদ ছিল। দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, হালিম রাজের বাড়ি ময়মনসিংহ। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লেখেন। তার বন্ধু আব্দুল হালিম ঢাকায় থাকেন। তিনি ইউটিউবার। হালিম রাজ তার কবিতা প্রকাশের জন্য আব্দুল হালিমের কাছে ঢাকায় আসেন। এরপর হালিম রাজ সবকিছু আব্দুল হালিমকে দেখান। তাকে কবিতা প্রকাশের জন্য অনুরোধ করেন। এরপর আব্দুল হালিম রাজকে আশ্বস্ত করে প্রকাশের ব্যবস্থা করবেন।
পরবর্তীতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের জাদুঘরে কর্মরত আবুল কাশেম ওরফে কিশোরের কাছে গিয়ে মনের কথা ব্যক্ত করেন তিনি। হালিম রাজের অভিযোগ, কবিতা ও গান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে এক বছর আগে কিশোরকে ৩৫ হাজার টাকা দেন। কিন্তু কিশোর টাকা নিয়ে কাজ না করায় সে রেগে এ ‘লঙ্কাকাণ্ড’ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে চারপাশ তাকিয়ে দেখি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে ধোঁয়া। একজন ব্যক্তি একটি ব্যাগ থেকে বোমা সাদৃশ তিনটি বস্তু নিচে রাখেন। এর মধ্যে মালার মতো করে একটি বস্তু গলায় ঝুলান। তারপর ওই একই ব্যাগ থেকে একটি বোতল বের করে তা থেকে তরল জাতীয় কিছু নিজের গায়ে ঢেলে লাইটার বের করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি একটি ব্যানার হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
পরে বোমা শনাক্তের জন্য বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ককটেল সদৃশ বস্তুগুলো পরীক্ষা করে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি