বাংলা৭১নিউজ, মোঃ গোলাম ফারুক, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: দুপচাঁচিয়া উপজেলায় বর্ষার শুরুতেই বিভিন্ন হাট বাজারে মাছ ধরার উপকরন বাঁশের তৈরী খলশানী বা চাঁই বিক্রির ধুম পরেছে। এলাকার হাট বাজার গুলোতে প্রতিদিন শত শত এই সব খলশানি বা চাঁই বিক্রি হচ্ছে।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী ধাপসুলতানগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের পশ্চিম দিকে দক্ষিণ কোনায় মাছ বিক্রির এসব চাঁই স্থানীয় ভাষায় খলশানি বিক্রির জমজমাট আসর। বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই তাদের নিপুন হাতের তৈরী এসব খলশানি নিয়ে এসে তা বিক্রির জন্য পরসা সাজিয়ে দাড়িয়ে আছে। এ ব্যাপারে খলশানি বিক্রেতা পার্শ্ববর্তী নন্দিগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রামের অপিল মাঝির পুত্রদ্বয় রতন (৩৪), উজ্জল (৩০) জানান, আষাঢ় শ্রাবন দুই মাস বর্ষাকাল। প্রতি বছর বর্ষার শুরু থেকে তাদের খলশানি বিক্রির এ ব্যবসা শুরু হয়। চলে পুরো বর্ষারই দু’মাস।
এ দু’মাসের জন্য তারা সারা বছর অপেক্ষায় থাকে। অন্যান্য মাসে তারা খলসানি তৈরীর সামগ্রী ক্রয় করে তা খলশানি তৈরীর কাজের উপযোগী করে প্রস্তুত করে। বর্ষা শুরুর এক মাস আগে থেকেই শুরু করে খলশানি তৈরীর কাজ। এ কাজে বাড়ীর গৃহীনি থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েরাও সহযোগীতা করে। এসব খলশানি তৈরীতে প্রকার ভেদে খরচ হয় ১০০ থেকে ৩০০ শত টাকা। আর তা বিক্রি হয় ৩০০ শত থেকে ৫০০ শত টাকা পর্যন্ত। অপর খলশানী বিক্রেতা গোপেল মাঝির পুত্র গোপাল (৩২) কাহালু উপজেলার হরিপুর গ্রামের বিরেশ্বরের পুত্র নিমাই (৪৪) “বাংলা৭১নিউজ” কে জানান, তারা প্রতি হাটে ৩০ থেকে ৪০ টি খলশানী বিক্রি করেন। তারা আরও জানান, খলশানী তৈরীর সামগ্রীর দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তাই আগের মত আর লাভ হয়না।
দীর্ঘ দিন থেকে এ ব্যবসায় জরিত, তাই এ ব্যবসা ছাড়তে পারছে না বলেই ধরে আছে। স্থানীয় এক খলশানী ক্রেতা ধাপহাট এলাকার রইচ উদ্দিনের পুত্র শাহাদত হোসেন (৪৫) জানান, হাট-বাজার থেকে দেশীয় মাছ প্রায় হারিয়েই গেছে। যে দু’একজন দেশীয় মাছ বিক্রির জন্য আনেন, তার দাম অনেক। যা তাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয় করে খাওয়া কষ্টকর। তাই হাট থেকে ৪টি খলশানী কিনেছেন। বগুড়া শহরের চকঝুঁপি জিগাতলা এলাকার মিছির সরকারের পুত্র মোজাহার সরকার (৭০), ক্ষেতলাল উপজেলার হন্তাবাদ এলাকার মৃত মনতেজার রহমানের ছেলে মোস্তফা (৪৫) অনুরূপ একই কথা বলে জানান, আষাঢ়ের গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় মাঠে ঘাটে বেশ পানি জমেছে। এই পানিতে দেশী সিং, টেংরা, কই, পুঁটি, শাটি মাছ পাওয়া যায়। এসব মাছ ধরার জন্যই তারা বাহিরে থেকে বৃহৎ এই ধাপসুলতানগঞ্জ হাটে এসেছেন। খলশানীও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা আরও জানান, বর্ষা এবার আগাম শুরু হওয়ায় খলশানী বা চাঁই এর কদরও বেরেছে। হাট-বাজারে তাই বিক্রির ধুমও পড়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস