তুরস্ক, সিরিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তুর্কি ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতাইয়ের মতে, শুধু তুরস্কে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১৭,৬৭৪। ওদিকে সিরিয়ায় নিহতের বাস্তব সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে জানা গেছে সেখানে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৩৭৭।
এ অবস্থায় তীব্র ঠাণ্ডায় পেরিয়ে গেছে চারদিন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে আছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। এরই মধ্যে ভূমিকম্পের ৯৬ ঘন্টা পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দেশ দুটিতে বিরাজ করছে হাহাকার। চারদিকে ক্ষুধার্ত মানুষ।
তাদের দেখা দিয়েছে গরম কাপড়ের সংকট। খাদ্যের সংকট। ভয়াবহ ঠাণ্ডায় তারা অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় ত্রাণ ও পুনর্গঠন সহযোগিতা হিসেবে তুরস্ককে ১৭৮ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তুরস্ক ও সিরিয়াকে আরও অর্থ সহায়তা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ।
তুরস্ক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে সিরিয়াতে জাতিসংঘের প্রথম ত্রাণবাহী গাড়িবহর প্রবেশের কয়েক ঘন্টা পরে তিনি এ কথা বলেন। আগামী সপ্তাহে আলাদা একটি তহবিলের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আহ্বান জানাবে জাতিসংঘ। তিনি বলেন, জনগণ ভয়াবহ এক ভীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমে বসবাসরত মানুষ ১২ বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধ মোকাবিলা করছে। তার ওপর ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ফলে এসব এলাকায়
বসবাসকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মানবিক সংকট। তাদের কিছুই নেই। অসহায় তাকিয়ে আছে তারা। এর মধ্যে রাশিয়ার বিরোধিতা সত্ত্বেও তুরস্ক থেকে একমাত্র ক্রসিং পয়েন্ট দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছে মানবিক ত্রাণ।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আছে সিরিয়ার বিরুদ্ধে। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব মনে করেন, তাতে মানবিক সহায়তায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
বাংলা৭১নিউজ/আরএম