বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কত শতাংশ শুল্ক বসালেন ট্রাম্প বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারির মৃত্যু ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন: প্রেস সচিব ২০৩৫ ফুটবল বিশ্বকাপ কোথায় হবে, জানাল ফিফা টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযান, অস্ত্রসহ বিপুল নদগ অর্থ জব্দ ভারতের কিছু মিডিয়ার কাজই হচ্ছে মিথ্যা বলা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঈদের ছুটি শেষে এসএসসি পরীক্ষা, নানামুখী চ্যালেঞ্জ বিমসটেক সম্মেলনে তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন প্রধান উপদেষ্টা ‘মোদী আমার বন্ধু’ বলেই ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন টিউলিপ সিদ্দিক সৌদি আরবে সড়কে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার যুবক ধলেশ্বরী নদীতে সেনা অভিযান : অস্ত্রসহ ডেঞ্জার গ্যাংয়ের ১৬ জন আটক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা নিহত কালীগঞ্জে লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে যুবককে হত্যা মোহাম্মদপুরে সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার ৬ ‘স্বাধীনতা ২.০’ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ফারুকী চাঁদপুরে উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র মোলহেডে দর্শনার্থীদের ভিড় হঠাৎ উত্তপ্ত সিলেট: আওয়ামী লীগের ৪ নেতার বাসায় হামলা বিমসটেক সম্মেলনে বিকেলে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ

কলকাতায় শুরু হলো ১১তম বাংলাদেশ বইমেলা

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক:
  • আপলোড সময় মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

কলকাতার কলেজ স্কোয়ার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বইমেলা- ২০২৩ শুরু হয়েছে। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ১১তম বাংলাদেশ বইমেলার উদ্বোধন হয়, যা চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এবার মেলার আয়োজন করেছে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকাশক ও লেখক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়, সুধাংশু শেখর দে, বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে। ১০ দিনের এই মেলায় বাংলাদেশের ৬৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশ নিয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অন্বেষা প্রকাশন, আহমেদ পাবলিশিং হাউজ, মাওলা ব্রাদার্স, অনিন্দ্য প্রকাশ, নালন্দা, বাতিঘর, উজান, কথাপ্রকাশ, মাওলা ব্রাদার্স, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, কাকলী প্রকাশনী।

এছাড়াও বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে মেলাপ্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ স্টল।

মেলায় বই বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে সেমিনার, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। যেখানে অংশ নেবেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিল্পী ফরিদা পারভীন।

উল্লেখ্য কলকাতা’য় বাংলাদেশ বইমেলা’র যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে কলকাতার গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায়। পরপর তিন বছর সেখানে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৪ সালে এই বইমেলা রবীন্দ্র সদনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে স্থানান্তরিত হয়। মূলত সেই সময় থেকেই মেলায় যোগ হয় নতুন মাত্রা। শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

তিন বছর সেখানে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৭ সালে বইমেলা স্থানান্তরিত করা হয় মোহর কুঞ্জে। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরপর তিনবার সেখানে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০, ২০২১ সালে এই মেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ২০২২ সালে বই মেলার আসর বসে কলকাতার বইপাড়া নামে খ্যাত কলেজ স্ট্রিটের কলেজ স্কোয়ার প্রাঙ্গণে।

গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই বইমেলার আয়োজনের ফলে কলকাতায় বাংলাদেশের বইয়ের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি লেখকদের পরিচিতি বাড়ছে একই সঙ্গে বাংলাদেশি বইয়ের বাজারও প্রসারিত হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই দুই বাংলার কাছে এই বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, কেবলমাত্র রাজনৈতিকভাবে নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। কারণ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব বইমেলা কলকাতাতেও সারম্বরে উদযাপন হয়। আমাদের মধ্যে হয়তো কাঁটাতার, ভিসা, পাসপোর্ট আছে কিন্তু চিন্তায় বা মননে কোনো ফারাক নেই।

‘আমাদের সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস সবই এক। আমাদের মধ্যে যে জিনিসটি বিভাজন করতে পারেনি সেটা হলো বই। তাছাড়া কলেজ স্ট্রিটের মতো একটি বইপাড়ায় এরকম একটি মেলা হওয়ায় আমি সত্যি আনন্দিত।’

আগামীদিনে এই কলেজ স্কোয়ার প্রাঙ্গনেই স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ বইমেলা করার ব্যাপারেও এক প্রকার নিশ্চয়তা দেন ব্রাত্য বসু। বলেন, গত বছরও মেলা এখানে হয়েছে। এ বছরও এখানে হয়েছে। তাই এটাই স্থায়ী জায়গা বলে ধরে নিতে হবে। তার মতে, এখানে মেলা হলেই ভালো হয়। আগামী দিনেও এখানেই হবে। কলকাতা পৌরসভার থেকেও সবসময় সহযোগিতা পাবো বলে আশা করছি।’

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক জানান, খুব ছোটভাবে কলকাতায় বাংলাদেশ বইমেলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আজ তা বাড়তে বাড়তে পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়ার দাবি রাখে।

‘এই বইমেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রকাশকদের একটা ব্যাপ্তি ঘটছে। তাছাড়া একটা অপরের পরিপূরক। কারণ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের প্রকাশনা মিলেই বাংলার সাহিত্য, মননশীলতা ও ইতিহাস চর্চার মিলন ঘটে। ফলে এটা উভয়ের কাছেই উইন উইন সিচুয়েশন।’

লেখক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, একটা সময় বাংলাদেশের প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, বাংলাদেশের লেখকদের বই কলকাতার মানুষ ততটা গ্রহণ করেন না। কিন্তু গত ১১ বছর ধরে সেই চিত্রটা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। তার মধ্যে একটি কারণ হল কলকাতার মাটিতে বাংলাদেশ বইমেলা হওয়া, দ্বিতীয় কারণ কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ন তৈরি হওয়া।

‘এপারের বাঙালিদের কাছে বাংলাদেশের সাহিত্য সম্পর্কে অবহেলা ছিল। কিন্তু যখন থেকে বাংলাদেশের বই এখানে আসতে শুরু করলো, তখন থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে লাগলো। এখন বাংলাদেশের বইয়ের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আগ্রহ, আকর্ষণ ও ভালোবাসা জন্মেছে।’

বাংলা৭১নিউজ/এসএকে

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরও সংবাদ
২০১৫-২০২৫ © বাংলা৭১নিউজ.কম কর্তৃক সকল অধিকার সংরক্ষিত।
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com