ঈদের ছুটি শেষ হতেই শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। টানা ৩৮ দিনের ছুটি কাটিয়ে আগামী ৮ এপ্রিল খুলবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর দুদিন পর অর্থাৎ ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। আসন্ন এ পরীক্ষায় বসবে ১৯ লাখ ২৮ হাজার ২৮১ জন পরীক্ষার্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা এবং কারিগরি মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের তিন হাজার ৭৪৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ মে।
মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, এপ্রিল ও মে কালবৈশাখী ঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দুটি মাস। সাধারণত এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে শেষ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা পেছালে বড় সংকট তৈরি হবে।
এছাড়া এপ্রিল-মে মাসে প্রচণ্ড গরম পড়ে। গ্রামের অসংখ্য পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে গরমে পরীক্ষার কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়ে পরীক্ষার্থী। এটিও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ।
এর আগের বছর অর্থাৎ, ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি। আর শেষ হয়েছিল ১২ মার্চ।
অন্যদিকে, এবার ঢাকাসহ সব শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ নতুন কর্মকর্তা। পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা নেই তাদের। প্রশ্নফাঁস রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ভূমিকা রাখে, তা এবার কতটা সম্ভব হবে; সেটা নিয়েও দুশ্চিন্তায় শিক্ষা প্রশাসন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন উপসচিব নাম প্রকাশ করে বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রস্তুতি সভায় নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সিআর) আবরার কিছু চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে প্রশ্নফাঁস বা প্রশ্নফাঁসের গুজব ঠেকানো, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নতুন কর্মকর্তাদের দিয়ে সফলভাবে পরীক্ষা পরিচালনা অন্যতম।’
তিনি বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; বিশেষ করে পুলিশ এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে অনেক বেশি তৎপর থাকে। র্যাবও সক্রিয় থাকে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। পুলিশ নানামুখী সংকটের মধ্যে সময় পার করছে। তাদের পক্ষ অন্যবারের মতো ভালো সার্ভিস বা সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয় সভায়।’
ঢাকাসহ সবগুলো শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নতুন কর্মকর্তারা এসেছেন। তাদের দিয়ে এসএসসির মতো বড় পাবলিক পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করাটাকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা তো সত্য যে আমরা নতুন। অনেকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এত বেশি নিগৃহীত ছিলাম, যে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা থেকে শুরু করে কোনো ধরনের কাজে আমাদের সম্পৃক্ত রাখা হয়নি। হঠাৎ পরীক্ষার আগে আমাদের কাঁধে দায়িত্ব এসেছে। আমরা এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। উপদেষ্টাও এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।’
১১টি শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। এখন ফেসবুকে গুজব ছড়ায় একটি চক্র। এ চক্রকে ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। তারা সচেতন হলে গুজব ছড়ানো চক্র কিছুই করতে পারবে না।’
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, ‘পুলিশের পাশাপাশি এবার মাঠে সেনাবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। পরিস্থিতি বুঝে তারাও এসএসসি পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন বলে আমরা জেনেছি। সেটা করা গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংকট থাকবে না।’
নতুন কর্মকর্তাদের দিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা নতুন এটা মানতে আমি রাজি নয়। হয়তো তারা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেননি। কিন্তু তারা তো কেউ কেউ বড় বড় কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। একটি কলেজ যিনি ভালোভাবে চালাতে পারেন, তিনি পরীক্ষার দায়িত্বগুলোও সফলভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।’
তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে সংকটে পড়তে হবে বলে মনে করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিনিয়র সচিব। তিনি বলেন, ‘এবার পরীক্ষার সময়সূচিটা কিছুটা পিছিয়ে করা হয়েছে। ফলে ঝড়-ঝঞ্চার মধ্যে পড়ে যেতে পারে। সেটা একটা ভয়। যদি তেমন ভয়ংকর কিছু হয়, সেক্ষেত্রে পরীক্ষা পেছাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর তো কারও হাত নেই। সমস্যাটা হলো জুনে আবার এইচএসসি পরীক্ষা। তার আগে এসএসসি শেষ করাটা গুরুত্বপূর্ণ।’
বাংলা৭১নিউজ/এসএন