আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তিসহ ৫ দফা দাবিতে পল্টন থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। কর্মসূচী পালনের আগে হকার নেতৃবৃন্দের বাড়িতে পুলিশি হানা ও হকারনেতা লিটনসহ ৭ জনকে থানা হাজতে আটক করা হয়।
সোমবার দুপুরে পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের সামনে ঘেরাও পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্মারকলিপি পাঠ করেন হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ। বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, হকার নেতা আব্দুর রাজ্জাক, মো. জসিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, আনিচুর রহমান পাটোয়ারী, শাহিনা আক্তার প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা নগরীতে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুতেই জনগণের প্রয়োজনীয় দ্রব্য হকাররা সস্তায় এবং সহজে বিক্রি করে থাকে। কিন্তু তাদের জীবন-জীবিকা প্রতিমুহূর্তেই ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এই হকারদের সমস্যা সমাধানের জন্য হকার্স ইউনিয়ন বিগত এক দশক ধরে হকার আইন প্রণয়নের দাবিতে ধারাবাহিক লড়াই-সংগ্রাম করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান তারা।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, হকার্স ইউনিয়নের নেতা, পল্টনে বই বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেনকে ডিভি পুলিশ গত ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ম্যাগাজিন পত্রিকা বিক্রির অপরাধে গ্রেফতার করেন। দেলোয়ারকে দিয়ে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানোর ষড়যন্ত্র চলছে। দীর্ঘদিন জেলে থাকার ফলে দেলোয়ারের পরিবার অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করছে। দেলোয়ারের পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ নেই। নেতৃবৃন্দ হকার্স ইউনিয়নের ন্যায়সঙ্গত ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীর ও সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াতের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিককে স্মারকলিপি প্রদান ও বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে আটককৃত ৭ হকার নেতাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বাংলা৭১নিউজ/এবি